করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন রেলের গচ্ছা ১৩ লাখ টাকা

Passenger Voice    |    ১১:৪০ এএম, ২০২১-০৪-০৩


করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন রেলের গচ্ছা ১৩ লাখ টাকা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। যে কারণে গণপরিবহনের ন্যায় ট্রেনেও অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে হঠাৎ করে এই নির্দেশনা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়নে কয়েকদিন সময় লাগছে রেলের। গত ২২ মার্চ থেকে বিভিন্ন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হওয়ায় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ণসিটেই যাত্রী পরিবহন করবে রেল। পরদিন ৫ এপ্রিল থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে সকল যাত্রীবাহী ট্রেন। এজন্য গত মঙ্গলবার থেকে অর্ধেক টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হলেও ১১ এপ্রিল থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ইস্যু পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী পরিবহনেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে রেলে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত বলেন, করোনার প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ট্রেন চলবে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আগের মতোই নেয়া হবে।

শুধুমাত্র ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাত্রী নেয়া হবে। অর্থাৎ যে স্টেশনে ১০টা সিট ছিল সেখানে এখন থেকে ৫টা সিটের টিকিট বিক্রি হবে। কোটার টিকিট ১০০টি থাকলে টিকিট বিক্রি হবে ৫০টি। এক্ষেত্রে রেলের আর্থিক ক্ষতিতো হবেই।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিদিন ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮৯০টি সিটের বিপরীতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, চট্টলা এক্সপ্রেসের ৫৭৭ সিটের বিপরীতে দুই লাখ টাকা, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের ৬৬০ সিটের বিপরীতে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, মহানগর গোধুলীতে ৭০৯ সিটের বিপরীতে তিন লাখ টাকা, সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনে ৬৪৮ সিটের বিপরীতে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ঢাকাগামী সোনার বাংলা ট্রেনে ৫৮৪ সিটের বিপরীতে সাড়ে তিন লাখ টাকা, মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনে ৭৫১ সিটের বিপরীতে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা, উদয়ন এক্সপ্রেসে ৬৩৩ সিটের বিপরীতে তিন লাখ টাকা ও তূর্ণা নিশিতা ট্রেনে ৬৬৮ সিটের বিপরীতে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হয়।

নয়টি ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ টাকা আয় হলেও করোনা মহামারির নতুন নির্দেশনায় অর্ধেক টিকিট বিক্রির কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতিটি ট্রেনের আর্থিক আয় অর্ধেকে নেমে আসবে।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী বলেন, এখন যেসব ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে, সেগুলোর টিকিট ২২ মার্চ থেকে বিক্রি শুরু হয়। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সবগুলো ট্রেনে পুরোপুরি যাত্রী পরিবহন করা হবে। ৫ এপ্রিল থেকে সবগুলো ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে। ইতোমধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে অর্ধেক টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ৫০ শতাংশ টিকিটের মধ্যে ২৫ শতাংশ অনলাইনে বাকি ২৫ শতাংশ কাউন্টারে পাওয়া যাবে।

এদিকে ট্রেন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় কমতে শুরু করেছে। টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে পূর্বের ন্যায় আবারো বৃত্ত আঁকা হয়েছে। এমনকি স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনেও একইভাবে বৃত্তাকার মার্কিং করা হয়েছে। যাতে সারিবদ্ধভাবে দূরত্ব অনুসরণ করেই যাত্রীরা সেবা নিতে পারেন। প্লাটফর্মে যাত্রী ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কোন যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। একই সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করেই যাত্রীরা প্লাটফর্মে যেতে পারছে।