শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:২৯ এএম, ২০২১-০৩-২৭
চীনের মাধ্যমে জিটুজি পদ্ধতিতে তিনটি রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সেগুলো নির্মাণে বর্তমানে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকার অনুমোদিত অতিরিক্ত দর কমিয়ে তা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবে রাজি হয়নি চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ পরিস্থিতিতে করণীয় জানতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে রেল মন্ত্রণালয়ে। পরবর্তী নির্দেশনা জানতে চাওয়া হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তার আগে অত্যধিক ব্যয় চিহ্নিত করে প্রকল্পে সংশোধনী আনতে নির্দেশ দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
চীনের সাহায্যে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প গতি পাচ্ছে না ঋণচুক্তির অভাবে। বিসিআইএম করিডরের অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ যুক্ত হবে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পে। এটি নির্মাণ করা হচ্ছে চীনের অর্থায়নে। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ এ প্রকল্পের অর্থায়নে ইআরডির মাধ্যমে চীনা দূতাবাসে চিঠি যায়। এর পর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা পর্যালোচনা করে। এ নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয়। কিন্তু এখনো তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। এতে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই ‘জরুরি ভিত্তিতে’ ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চীনের রাষ্ট্রদূতকে এখন ‘অনুরোধ’ করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
সূত্রমতে, চীনের অর্থায়নে নির্মাণ করতে বিনা দরপত্রে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে দুটি প্রকল্পে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির মাধ্যমে দর প্রস্তাবের অনুমোদন মেলে। এ ছাড়া একনেকেও প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে। এর পর এসব প্রকল্পের অতিরিক্ত খরচ নির্ধারণসহ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ফলে ব্যয় কমানোসহ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে। এর মধ্যে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ও আখাউড়া-সিলেট রেলপথ নির্মাণে নির্ধারণ করা দর থেকে ৩ হাজার ৩৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা কমানোর কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে ব্যয় কমানোর সুযোগ নেই। আখাউড়া-সিলেট রেলপথটির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অবশিষ্ট জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথ প্রকল্পে এখনো দরকষাকষি পর্যায়েই যায়নি; প্রাথমিক পর্বে আছে প্রকল্পটি।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের পর ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়। খরচ কমানোর জন্য প্রস্তাব তৈরি করে এ সংক্রান্ত কমিটি। তাদের প্রতিবেদনে দর নির্ধারণের জন্য চলমান অন্য প্রকল্পের আইটেমের দরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতামত চাইলে তারা বেশ কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে প্রকল্পের মূল্য পুনর্নির্ধারণে একমত পোষণ না করে জবাব পাঠিয়েছে। সেখানে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) অনুমোদিত দরমূল্য বহাল রাখার কথা বলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের দাখিল করা রিপোর্ট ইতোমধ্যে রেল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি শুনে বলেন, ‘এ বিষয়ে আপাতত কথা বলতে পারছি না। পরে মন্তব্য করব। এখন ব্যস্ত আছি।’
প্রসঙ্গত, চীন সরকারের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের খরচ, সময় বৃদ্ধি, অসঙ্গতি ও ঋণচুক্তির খবর না প্রকাশ করতে চীনা দূতাবাস চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। বিশেষ করে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ প্রকল্পের নাম উল্লেখ করা হয় সেই চিঠিতে। তাই এ নিয়ে রেলের অন্য কর্মকর্তারাও কথা বলতে রাজি হননি।
জানা গেছে, আখাউড়া-সিলেট মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ সিঙ্গেল লাইন রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা এ দুটি প্রকল্প নিয়ে বড় বিপত্তি। একনেকে অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়। ধরা পড়ে ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণসহ নানা অসঙ্গতি। আরেকটি ‘জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পটির এখনো নেগোসিয়েশন হয়নি। এর আগে এসব প্রকল্পের অত্যধিক ব্যয় নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও কানে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। চিহ্নিত দুটি প্রকল্পে ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয় রেলওয়ে। এখন নতুন করে দরকষাকষিসহ ডিপিপি অনুমোদনসহ সব প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আগেই দরকষাকষি চূড়ান্ত হওয়ায় নতুন করে নেগোসিয়েশনে আপত্তি জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
চীনের এসব প্রকল্পের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন হচ্ছে- আখাউড়া-সিলেট প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় থেকে ৩ হাজার ৩৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা (২০.৮%) কমে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং খ. জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পের ক্ষেত্রে কমিটি কর্তৃক নির্ধারণ করা অনুমোদিত দরমূল্য থেকে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা (১২.৯১%) কমের বিষয়সহ সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রকল্পটি সংশোধন করতে হবে। এ নিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর রেল ভবনে অনুষ্ঠিত ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ-সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের আইটেমের দর নির্ধারণে চলমান দোহাজারী-কক্সবাজার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের লট ১-এর চুক্তিপত্রের অন্তর্ভুক্ত আইটেমের সঙ্গে তুলনা করে কমিটি। এর পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি) কাছে মতামত চাওয়া হয়। এর জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মতামতসহ প্রতিবেদন ২৪ ফেব্রুয়ারি পাঠায় রেলওয়েতে।
রেলের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন প্রকল্পের সঙ্গে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের তুলনা করা ঠিক হয়নি। কারণ দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি অনেক জটিল। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে ওই রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। আবার হাতি চলাচলের জন্য ওই প্রকল্পে বেশ কিছু ওভারব্রিজ থাকছে। হাতির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও থাকবে ওই রেলপথে। তা ছাড়া বন্যপ্রাণীর খাদ্যের সংস্থানের জন্য প্রচুর বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। এরকম নানা কারণে ওই প্রকল্পে গড় ব্যয় বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তবে আখাউড়া-লাকসাম, আখাউড়া-আগরতলা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় অনেক কম। তাই ওই তিন প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন নির্মাণব্যয় আরও অনেক কম হওয়ার কথা।
অথচ জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পের নির্মাণকাজের জটিলতা প্রসঙ্গ তুলে ধরে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জয়দবেপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পটি বিদ্যমান লাইনের পাশে নির্মিত হবে। কিন্তু দোহাজারী-কক্সবাজার প্রকল্পটি নতুন ও নির্মাণ পদ্ধতি ভিন্ন। পার্থক্য আছে স্পেসিফিকেশন ও চ্যালেঞ্জের প্রকৃতির। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দাবি- নতুন রেলপথের তুলনায় বিদ্যমান রেললাইন নির্মাণে কারিগরি বিবেচনা, নির্মাণব্যয় ও জটিলতার তফাত আছে; তাই খরচ বেশি হবে। এমন অদ্ভুত যুক্তিও শুনতে হচ্ছে নেগোসিয়েশন চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায়।
তা ছাড়া নির্মাণ আইটেমের সঙ্গে মূল্য বিশ্লেষণ করেও ছয়টি যুক্তি দেখিয়েছে তারা। যেমন- মাটির কাজের ব্যাপারে বলেছে, এই অংশে ৩৭টি আইটেমের মধ্যে নয়টি আইটেমের দর পরিবর্তন করে ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি। এর মধ্যে তিনটি আইটেমের দর দোজাহারী-কক্সবাজার প্রকল্পের লট ১-এর চেয়ে বেশি, তিনটি আইটেমের দর কম এবং বাকি তিনটি আইটেমের দর প্রায় সমান। তিনটি আইটেমের দর বাড়ার যুক্তি হিসেবে প্রতিবছর শ্রমিক ও ইকুইপমেন্ট মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজার বিভিন্ন উপকরণের দর পরিবর্তন এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালামাল পরিবর্তনের দূরত্বের যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ট্র্যাকের কাজে ৪৬টি আইটেমের মধ্যে ১৬টি আইটেমের দর পরিবর্তন করে ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি। এর মধ্যে চারটি আইটেমের দর দোহাজারী-কক্সবাজার প্রকল্পের লট ১-এর চেয়ে বেশি।
বাকি আইটেমগুলোর দর প্রায় সমান বা কম। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আইটেমের মধ্যে প্রধান হলো ইউআইসি ৬০ কেজি রেলের দর। পার্থক্যের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্টিলের দরের পরিবর্তনকে বড় করে দেখানো হয়েছে। এখানেও একই সুর- চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পরিবহনের দূরত্ব।
স্টেশন বিল্ডিংয়ের ব্যাপারে ৩০টি আইটেমের ক্ষেত্রে সরাসরি ৫ শতাংশ কমিয়ে দর নির্ধারণ করে কমিটি। ঠিকাদার বলছে, এ অংশের দর পিডব্লিউডির রেট শিডিউল অনুযায়ী নেগোসিয়েশন কমিটি ও সিসিজিপির মাধ্যমে অনুমোদিত। এ পর্যায়ে সংশোধন করা হলে প্রকল্পটি পিছিয়ে যাবে বলে মত দিয়েছে। এ ছাড়া ব্রিজ ও কালভার্ট এবং সিগন্যাল ও টেলিকম অংশে ৬৬টি আইটেমের মধ্যে ২২টি আইটেমের দর পরিবর্তন করে। সার্বিকভাবে এই অংশে ঠিকাদারকে নেগোসিয়েটেড মূল্য থেকে ১৫৪ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দর ঠিকাদারের জন্য লাভজনক হলেও এখন সংশোধন করা হলে সার্বিকভাবে প্রকল্পটি পিছিয়ে যেতে পারে বলে দাবি করছে।
মূল্য সমন্বয় বা প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের বিষয়ে ঠিকাদারের মত- ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সে হিসাবে এ প্রকল্পের চার বছর নির্মাণকালে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন। এটি সিসিজিপি অনুমোদনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তাই ১০ শতাংশ মূল্য সমন্বয় বিবেচনা করা বাস্তবসম্মত হবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার প্রকল্পের সর্বমোট ৬৪টি আইটেমের দর এ প্রকল্পে ব্যবহার করেছে। সিসিজিপির অনুমোদনের তুলনায় সার্বিকভাবে তা ১২৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা কমে। কিন্তু কক্সবাজার-দোহাজারীতে লট ১-এ ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে মূল্য সমন্বয়ের ফলে ১১ থেকে ১৬ শতাংশ বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পের ব্যয় ৩০২ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতে, এ প্রকল্পে সওজ ও গণপূর্ত বিভাগের রেট শিডিউল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্মাণসামগ্রীর খরচ প্রতিবছর বাড়ে। এ প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটার ব্যয় ৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। কক্সবাজার-দোহাজারী প্রকল্পের লট ২-এর দর ৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার এবং পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ১৮ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার থেকে কম। তা ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়ের প্রভাব আছে। বড় কথা, দোহাজারী-কক্সবাজার লট ১-এর দর করা হয় ২০১৬ সালে আর জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পের নেগোসিয়েটেড মূল্য ২০১৭ সালের ওপর ভিত্তি করে। এ রকম নানা যুক্তি তুলে ধরে ব্যয় কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পেয়েছে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পটি। দৈর্ঘ্য ১৯৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
এদিকে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এ প্রকল্পে নির্মাণব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে মাটির কাজে ৩৪৬ কোটি ২৮ লাখ, ট্র্যাকের কাজে ১৯২ কোটি ৫৭ লাখ, সিগন্যাল ও টেলিকম খাতে ২১ কোটি ৬১ লাখ, সেতু ও কালভার্ট খাতে ১৪৬ কোটি ৪৬ লাখ, স্টেশন ও বিল্ডিং খাতে ২০ কোটি ৩৩ লাখ এবং প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট খাতে ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত