জাপান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন

Passenger Voice    |    ১০:৫৮ এএম, ২০২১-০৩-০৫


জাপান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন

মেট্রোরেলের প্রথম সেট ট্রেন বাংলাদেশে আসছে। ট্রেনটি জাপানের কোবে বন্দর থেকে জাহাজে করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ট্রেনটি ঢাকায় মেট্রোরেলের ডিপোতে এসে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেল লাইনে (এমআরটি-৬) চলাচল করবে ট্রেনটি।

বাংলাদেশে আনার আগে ডিএমটিসিএলের একটি বিশেষজ্ঞ দলের জাপান গিয়ে ট্রেনগুলো পরীক্ষার কথা ছিল। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পরিদর্শন করেছে কোম্পানিটি। ডিএমটিসিএলের পক্ষে ট্রেনগুলো পরিদর্শন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরিদর্শন কার্যক্রম ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত একটি মেট্রো ট্রেন বাংলাদেশে আনার আগে পাঁচ ধরনের পরীক্ষা করতে হয়। আর দেশে আনার পর আরো ১৪ ধরনের পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আনার পর সব পরীক্ষা করা হবে। এরপর শুরু হবে ট্রায়াল রান। অন্তত ছয় মাস ট্রায়াল রান করার পর যাত্রী পরিবহন শুরু হবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বাকি ট্রেনগুলো দেশে চলে আসবে। দ্বিতীয় সেট ট্রেনটি জাপান থেকে ১৫ এপ্রিল রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেটি ঢাকায় পৌঁছতে পারে ১৬ জুন। আর তৃতীয় ট্রেনটি ১৩ জুন রওনা হয়ে ১৩ আগস্ট পৌঁছতে পারে। ট্রেনগুলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ট্রায়াল রান দ্রুত শুরুর কথা জানিয়েছেন তিনি।

এমআরটি লাইন-৬-এর জন্য সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেন কেনা হচ্ছে। ট্রেনগুলো বানাচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিত্সুবিশি। সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে এসব ট্রেন বাংলাদেশে আনতে মোট খরচ হবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেইনলেস স্টিল বডির ট্রেনগুলোয় থাকবে লম্বালম্বি সিট। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বগির দু’পাশে থাকবে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সংবলিত প্রতিটি টেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্টকার্ড টিকেটিং ব্যবস্থা।