নাটোর বিআরটিএর উচ্চমান সহকারী মিজানের দাম্ভিকতায় সেনা সদস্যের আত্মহত্যার ঘোষণা

Passenger Voice    |    ০৪:২১ পিএম, ২০২১-০১-২৫


নাটোর বিআরটিএর উচ্চমান সহকারী মিজানের দাম্ভিকতায় সেনা সদস্যের আত্মহত্যার ঘোষণা

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ মো. মারুফ হোসেন, নাটোর জেলার বরাইগ্রাম উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মো. আবু বক্কর এর ছেলে। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর বিআরটিএর নাটোর সার্কেলে সকল কার্যক্রম শেষ করে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করে। ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্মার্ট কার্ডটি ডেলিভারি পাওয়ার কথা ছিল তার। বিআরটিএর টেন্ডার জটিলতায় এখনও পর্যন্ত কার্ডটি প্রিন্ট হওয়ার সুযোগ হয়নি। সারাদেশে এমন প্রায় ১৫ লাখের বেশি গ্রাহক এই সমস্যায় রয়েছে। এই সময়ে বিআরটিএর প্রায় ৩ জন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছে। তবুও গতি ফেরাতে পারেনি কেউ। ২০২০ সালের জুলাই মাসে মাদ্রার্স সিকিউরিটিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিআরটিএ চুক্তি করলেও প্রায় ৭ মাস শেষ হয়েছে এখনও কার্ড প্রিন্ট শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। 

এদিকে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য নাটোর থেকে চট্টগ্রাম জেলার আর্টিলারি সেন্টারে যায় মারুফ হোসেন। সব কিছু ঠিক থাকায় ড্রাইভিং পদে সেনা সদস্য হিসেবে বাছায় হয় তিনি। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী নাটোরের কাজিরাবাদ সেনানিবাসে যোগদান করার কথা রয়েছে তার। তবে তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ডটি না পাওয়ায় তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে পারবে না। এই বিষয়ে বারবার বিআরটিএ নাটোর সার্কেলে গিয়ে কোন ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে তিনি তার ফেইসবুক আইডিতে বিআরটিএকে দোষারোপ করে আত্মহত্যার ঘোষনা দিয়েছেন।

মারুফ হোসেনের ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহ প্যাসেঞ্জার ভয়েস পত্রিকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

আত্মহত্যা করার ছাড়া কিছুই নাই আমার 'জিবনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার ডাইভিং পদে আমার সেনাবাহিনীতে জব হইছে কিন্তু ওরা smart card চায় আমার কপাল এতোটাই খারাপ যে আমি 2 বছর হলো ফিজ্ঞার দিয়েছি এখনো পেলাম না '''আর এই জিবন রেখে কি লাভ?আমাকে ওরা 6 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাইম দিয়েছে এর মধ্যে না দিতে পারলে আমাকে বাদ দিয়ে দেবে 'খুব বেশি দুঃখ এর সাথে পূথিবী ছাড়তে হবে 'বিআরটিএ অফিসে একটাই কথা বলবো আমি তো বাচবো না 'এইটাই আমার বলার ছিল আর আত্মহত্যা করার ছাড়া কিছুই থাকবে না আমার জীবনের 'আল্লাহ্ জানে কি অপরাধ করছিলাম দুনিয়াতে আমার সময় এমন হলো 'কোনো উপায় নেই পেলাম না কোনো হেল্প করার মানুষ নেই এই দেশে'''কি করবো আমি আর পারছি না একা ''কিসের জন্য আপনারা এমন করছেন আমার lifer একটা বড় কষ্ট আপনারা ইচ্ছে করলে সব করতে পারবেন কিন্তু করছেন না ''আর এইটাই আমার শেষ মাঠ এর আগে দুই বার বাদ পরছি লাইসেন্স এর জন্য '''আমি খুব বেশি ক্লান্ত এইবার বাদ পরলে আমা আত্মহত্যা করার ছাড়া কিছুই থাকবে না প্লিজ একটু আমাকে কেউ হেল্প করেন আপনাদের পায়ে ধরি আমাকে বাঁচান প্লিজ।

আরো পড়ুন>>> তথ্য পাচার কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রতিষ্ঠানের সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্সের চুক্তি বিআরটিএর

বিষয়টি জানতে মারুফ হোসেনের সাথে প্যাসেঞ্জার ভযেসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান। আল্লাহর রহমতে আমি সেনাবাহিনীতে একটা চাকরি পেয়েছিলাম। কিন্তু বিআরটিএ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় আমি যোগদান করতে পারছিনা। আমি বেশ কয়েকবার বিআরটিএর অফিসে গিয়েছি। এই সার্কেলের উচ্চমান সহকারী মিজানুর রহমান আমাকে বারবার বিআরটিএ থেকে বের করে দিয়েছে। সহকারী পরিচালকের সাথে পর্যন্ত আমাকে দেখা করতে দেয়নি। এমনকি আমার লাইসেন্সটি এখনও অনলাইন পর্যন্ত করা হয়নি। নিরুপায় হয়ে আজ সকালে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে, বিষয়টি বিআরটিএর বর্তমান চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে জানিয়ে আমি আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মতো অনেকে এই সমস্যায় আছে , আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও সরকার যেন বিষয়টিকে নজর দেয়। 

আরো পড়ুন>>> বিআরটিএর দুর্নীতির সম্রাট সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনসারী

মিজানুর রহমানের এমন কার্যকলাপের কারণ জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বারবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি। 

এই বিষয়ে নাটোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক রাসেদুজ্জামান প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি এই সার্কেলে, মারুফ হোসেনের বিষয়টি আমি জানিনা। আপনি (প্রতিবেদক) তাঁকে আমার কাছে একটু পাঠিয়ে দিন আমি ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মিজানুর রহমান যদি এমন কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই সহকারী পরিচালক। 

এদিকে পরিবহন বিশ্লেষকরা মনে করে এই বিআরটিএর কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরন জমিদারের মতো। বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলে দেখা যায় তারা জমিদারের ভূমিকায় থাকে সাধারণ নাগরিকদের তারা প্রজার মতো আচরন করে। নাগরিক সুবিধা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। কোন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারির করুনা নয়। বিআরটিএর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অভিযোগের কোন দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠে অনেকে। 

আরো পড়ুন>>> চাকরীর শেষের ১৭ দিন আগে দুর্নীতিবাজ বিআরটিএর এডি আব্দুল হান্নান বরখাস্ত