ধার চেয়েও ডাক্তার না পেয়ে ধুঁকছে পূর্বাঞ্চল রেলের হাসপাতালগুলো

Yasin Hoque    |    ০১:২০ পিএম, ২০২১-০১-১২


ধার চেয়েও ডাক্তার না পেয়ে ধুঁকছে পূর্বাঞ্চল রেলের হাসপাতালগুলো

ইয়াছিন হক: ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সব ধরনের জনবল সংকটে ধুঁকছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হাসপাতালগুলো। এই হাসপাতাল গুলোতে রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম ও অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে। সাম্প্রতি হাসপাতাল গুলোতে প্রেষণে ডাক্তার নিয়োগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক রেল ভবনে চিঠি দিলেও উত্তর প্রদানে গড়িমশি রয়েছে রেল সদর দপ্তরের। ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধারাম সর্দার এমন অবস্থায় চলছে এইসব হাতপাতাল গুলো। 

বিষয় গুলো প্যাসেঞ্জার ভয়েসের কাছে স্বীকার করলেন পূর্বাঞ্চল রেলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডাঃ ইবনে সফি আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, বর্তমানে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকা। রোগী (বিশেষ করে রেল কর্মীদের) শতভাগ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে কিছু সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে রেলওয়ে পরিচালক (সংস্থাপন) বরাবর আমরা চিঠি দিয়েছি। ডাক্তারদের শূন্য পদ গুলো পূরণ করা গেলে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করা যাবে।  

পূর্বাঞ্চল রেলের সূত্র বলছে, প্রথম শ্রেণীর ডাক্তারদের মধ্যে মঞ্জুরীকৃত ৩৬ টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ১৬ জন অথচ শূন্য পদ আছে ২০ টি। সিএমও/পূর্ব দপ্তরে ডাক্তারদের মঞ্জুরীকৃত ৩ টি পদের মধ্যে ২ টিই শূন্য। ডিএমও/চট্টগ্রাম দপ্তরে ১৩ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে মাত্র ৩ জন, শূন্য রয়েছে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ। যার মধ্যে চট্টগ্রামের চিকিৎসা কর্মকর্তার পদেও কোন ডাক্তার নেই। ডিএমও/পাহাড়তলি দপ্তরে ডাক্তারদের ৪ টি পদের মধ্যে ৩ টিই শূন্য আছে। চট্টগ্রামের বক্ষব্যাধি  হাসপাতালে এডিএমওর দপ্তরে ডাক্তারদের মঞ্জুরীকৃত ২ টি পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ঢাকার ডিএমও দপ্তরের ১৪ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ১১ জন ডাক্তার, ৩ টি পদে ডাক্তারের শূন্যতা রয়েছে। যার মধ্যে একটি ঢাকার বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তার পদও। সংশ্লিষ্টদের দাবী মূলত এই কারনে রোগী শূন্য হয়ে হাসপাতাল গুলো এমন মুখ থুবড়ে পড়েছে । তারা মনে করেন প্রশাসনিক পদে লোক না থাকলেও কাজ চালানো যায় তবে ডাক্তারের শূন্য পদ তো আর প্রশাসনিক কেউ পূরণ করতে পারেনা।  

এছাড়া পূর্বাঞ্চল রেলের হাসপাতালগুলতে ২য় শ্রেণীর মোট ৪ টি পদে কর্মরত আছে ৩ জন, শূন্য পদ আছে ১ টি। তৃতীয় শ্রেণীর মঞ্জুরীকৃত ১৭৫ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ১০৪ জন, শূন্য পদ রয়েছে ৭১ টি। তাছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর ৮৬৬ টি পদের মধ্যে ১৩১ টি পদ শূন্য রয়েছে। 

রেলওয়ে সূত্র বলছে, গত এক যুগে রেলের উন্নয়নে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার ১১৮ টি প্রকল্প গ্রহন করেছে বর্তমানে সরকার। এর ফলে আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দেখছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতায় রেলওয়ের হাসপাতালগুলোর উন্নয়নের কোন উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছেনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে ডাক্তার নেয়ার আকুতি জানানো হলেও বাস্তবে চিঠি চালাচালিতেই থমকে আছে সিদ্ধান্ত। এছাড়া পূর্বাঞ্চল রেলের অধীনে চারটি হাসপাতালের মধ্যে কোনটিতেই নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম,অ্যাম্বুলেন্স। তাই এখন আর যায় না রোগীও। 

হাসপাতালগুলোর প্রতি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব, আশেপাশে অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসা, যথাযত বাজেট বরাদ্দ না পাওয়া –এসব কারনেই পূর্বাঞ্চল রেলের হাসপাতাল কোমায় যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া রেলের ডাক্তারদের পড়াশোনা কিংবা উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই এখানে। নিয়োগ বিধি ৮৫ বাতিল হওয়ায় ডাক্তারদের বেতন স্কেলও বাড়ছেনা এখন।  দীর্ঘ সময় ধরে এমন অভিযোগ গুলোর ফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান করছে কর্মরত ডাক্তারদের মাঝে। 

এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, রেলের সকল বিভাগেই জনবল সংকট আছে। সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিধি জারি করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলে এ সমস্যা গুলো কেটে যাবে বলে আমি মনে করি। হাসপাতাল গুলোতে প্রেষণে ডাক্তার নিয়োগের বিষয়ে আমরা রেল ভবনে চিঠি দিয়েছি তবে এখনো কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।