শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫৫ এএম, ২০২০-১২-২৫
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সীতাকুণ্ড থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল আলম (৩২), কনস্টেবল সাইফুল ইসলামসহ (২৭) পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে পুলিশের দুই সোর্স ও গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে।
তারা হলেন- সোর্স রিপন (৩৫) ও হারুন (৩৩) এবং গাড়ি চালক রাজু (২৫)। তাদের তিনজনের বাড়ি সীতাকুণ্ড এলাকায়।
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় দণ্ডবিধির ১৭০/৩৯৫ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর: ৫০(১২)২০।
মামলার বাদি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানাধীন নিলোখিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার জহুরুল হকের ছেলে মো. আবু জাফর (৪৩)। তিনি গাজীপুর জেলার গাছা এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর মো. আবু জাফর একটি পিকআপ গাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে গাজীপুর থেকে সীতাকুণ্ডে আসেন। কিন্তু দরদামে বনিবনা না হওয়ায় তিনি গাড়ি না কিনে সন্ধ্যায় ফিরে যাওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড পৌর সদর বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে দুইজন লোক তার পাশে এসে বসেন। তারা আবু জাফরের কাছে কোন জায়গা থেকে এসেছে জানতে চান।
একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সীতাকুণ্ড থানার এসআই মো. সাইফুল আলম ও ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল মো. সাইফুল ইসলাম। তারা নিজেদের ডিবি হিসেবে পরিচয় দেয় এবং জাফরের কাছে ইয়াবা রয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে পেটে ইয়াবা রয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে এক্স-রে করান।
কিন্তু ইয়াবা না পেলেও পরে আরও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গাড়ি ক্রয়ের জন্য তার সঙ্গে রাখা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুটে নেয় এবং ভয় দেখিয়ে একটি গাড়িতে তুলে দেয়। আবু জাফর গাড়িতে করে ঢাকায় চলে যান। কিন্তু অনেক কষ্টে অর্জিত টাকা এভাবে লুটে নেওয়ায় আবু জাফর তা মানতে পারেননি। তিনি পুনরায় সুবিচারের আশায় সীতাকুণ্ড থানায় এসে ঘটনা জানান।
ঘটনাটি জানতে পেরে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় দণ্ডবিধির ১৭০/৩৯৫ ধারায় এসআই সাইফুল আলম, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, সোর্স রিপন ও হারুন এবং গাড়ি চালক রাজুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এসআই সাইফুল আলম, কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লাকে ফোন করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠান এবং ফিরতি ক্ষুদেবার্তায় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলেও কোনো উত্তর দেননি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) মো. আশরাফুল করিম বলেন, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। তাদের দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত