শিরোনাম
রেলওয়েতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ ইঞ্জিন
Passenger Voice | ১০:২০ এএম, ২০২০-১২-২০
প্রায় এক দশক পর বাংলাদেশ রেলওয়েতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি নতুন ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ)। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা এসব ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। কিন্তু এ গতিবেগে ট্রেন চালাতে হলে যে ধরনের মজবুত রেললাইন দরকার তা দেশে নেই। ফলে অবকাঠামোগত দুর্বলতায় অত্যাধুনিক এসব ইঞ্জিনের গতিও ৭০-৭৫ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে রেলে লোকোমোটিভ আমদানি না হওয়ায় পুরনো লোকোমোটিভগুলোর অতি ব্যবহারে ইঞ্জিনের গতি কমে আসছিল। এ কারণে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনগুলোর সেবা নাজুক হয়ে পড়ে। পুরনো ইঞ্জিনের কারণে ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে নতুন লোকোমোটিভ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নতুন ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ আমদানি করা হয় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। হুন্দাইয়ের তৈরি ২২০০ হর্স পাওয়ারের অত্যাধুনিক এসব ইঞ্জিনের লোকোমোটিভগুলোর ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি। ট্রায়াল রান কমিশনের জমা দেয়া রিপোর্টে লোকোমোটিভের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো মিটার গেজে দ্রুতগতির লোকোমোটিভ যুক্ত হলো। এসব লোকোমোটিভ ব্রড গেজেও রূপান্তর করা সম্ভব।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ ইঞ্জিনগুলোর ডিজাইন স্পিড ১১০ কিমি। লোডেড অবস্থায় টেস্ট অ্যান্ড ট্রায়ালে রেললাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতি ওঠে। পণ্যবাহী বগি নিয়ে ৩০০১ সিরিজের নম্বরযুক্ত ইঞ্জিনটি ট্রায়ালে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে চলেছে, যা আগের পণ্যবাহী ট্রেনগুলোতে চলাচলরত ইঞ্জিনের প্রায় দ্বিগুণ। দেশসেরা বিরতিহীন আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ছাড়াও বেশ কয়েকটি কনটেইনারবাহী ট্রেনে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে আগের চেয়েও বেশি গতিবেগে ট্রেন চালিয়েছে রেলওয়ে। তবে রেললাইনের সক্ষমতা কম হওয়ায় আমদানি করা ইঞ্জিন দিয়ে সর্বোচ্চ গতিবেগে ট্রেন চালাতে পারবে না রেলওয়ে।
রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ সুবিধাসংবলিত ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। তবে রেলপথের অবস্থা নাজুক হওয়ায় রেলওয়ে ৭৫-৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চালাতে পারবে না। যদিও আমদানি করা ইঞ্জিনগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) তারেক মোহাম্মদ সামছ তুষার বলেন, ‘কোরিয়া থেকে এর আগেও রেলওয়ে ইঞ্জিন আমদানি করেছে। নতুন ইঞ্জিনগুলো দিয়ে এরই মধ্যে ট্রায়াল রানও করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে রেলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ ইঞ্জিনগুলো বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
জানা গেছে, দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ নির্ধারিত গতির চেয়েও কম গতিবেগে ট্রেন পরিচালনা করে। ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ গতিবেগে ট্রেন না চালিয়ে সেকশনওয়ারি গতিবেগের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া রয়েছে খোদ রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিলে (ডব্লিউটিটি-৫২)। রেলপথের জীর্ণদশার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে রেলের বিভিন্ন ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা কমে আসছে। দেশে মিটার গেজ রেলপথে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে ব্রড গেজ রেলপথের প্রস্থ বেশি হওয়ায় ওখানকার ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০-৮৫ কিলোমিটার। এ অবস্থায় নতুন কোচ ও ইঞ্জিনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও পুরনো ট্র্যাক, রেলপথে পাথর কমে যাওয়াসহ অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ইঞ্জিনের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে রেলওয়ে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত