বিআরটিএর রাজস্বের ভাগ চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

Passenger Voice    |    ১১:৪১ এএম, ২০২০-১২-১৫


বিআরটিএর রাজস্বের ভাগ চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

ঢাকায় রাস্তা বানায় সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ)। মেরামত, পরিচ্ছন্ন রাখা, সড়ক বাতি লাগানো, সেগুলো দেখভাল করা—সব দায়িত্বও করপোরেশনের। আর রাস্তায় যেসব গাড়ি (মোটরযান) চলে, সেগুলোর রুট পারমিট ফি, রোড ট্যাক্সসহ সব ফি আদায় করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিএ)। বিষয়টি ‘বৈষম্যমূলক’ অভিহিত করে বিআরটিএর রাজস্বের ভাগ চেয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র।

দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, ঢাকায় পাকা রাস্তার পরিমাণ কম-বেশি তিন হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান সড়ক ৩০০ কিলোমিটারের মতো। বাকি প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সরু সড়ক। এসব সড়ক নির্মাণ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশন করে আসছে। এজন্য প্রতি বছর সংস্থা দুটি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে। সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত, ড্রেন, মিডিয়ান, সড়ক বাতির পেছনেও ব্যয় হয় মোটা অংকের টাকা। বর্তমানে ঢাকার এসব সড়কে চলাচল করা অযান্ত্রিক গাড়ি থেকে সিটি করপোরেশন রাজস্ব পেলেও সব ধরনের মোটরযানের রাজস্ব আদায় করছে বিআরটিএ।

গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা বদল, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও চালকদের কাছ থেকে রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, রোড ট্যাক্সসহ বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করে আসছে বিআরটিএ। মেট্রো, বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। বিআরটিএ তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করে সারা দেশ থেকে ৩ হাজার ৭৬ কোটি টাকা (আয়করসহ) রাজস্ব আয় হয়েছে। আর গত চার বছরে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশে যত গাড়ি চলাচল করে, তার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ চলে রাজধানী ঢাকায়। সংস্থাটির মোটরযান নিবন্ধন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারা দেশে নিবন্ধিত গাড়ির (মোটরযান) সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। এর ১৬ লাখই ঢাকা মেট্রো এলাকা থেকে নিবন্ধন নেয়া।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু ঢাকা থেকে নিবন্ধন নেয়া গাড়ি নয়, ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিপুলসংখ্যক গাড়িও সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টসের পণ্য পরিবহন, কাঁচামাল ও মালামাল আনা-নেয়ার কাজে সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজন নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী মালামাল নিয়ে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত গাড়ি চলায় রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়। রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় বাড়তি অর্থ। এসব মেরামতের জন্য গাড়ি থেকে বিআরটিএ যে রাজস্ব আয় করে, তার একটা অংশ সিটি করপোরেশনের পাওয়া যৌক্তিক বলে দাবি করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

গতকাল ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ড সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র (ডিএসসিসি) শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তবে বিষয়টি নিয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি ডিটিসিএ বোর্ডের চেয়ারম্যান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকালের বোর্ড সভায় বিআরটিএর রাজস্ব আদায়ের ভাগ নয়, মোটরযানের রুট পারমিটের বিষয়টি ডিটিসিএর অধীনে আনারও সুপারিশ করেছেন দুই সিটি মেয়র।

সভাশেষে বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, দুই সিটি করপোরেশন বিআরটিএর কাছ থেকে রাজস্ব নেয়ার একটা প্রস্তাব করেছে। তবে এটা কীভাবে করা হবে, তার কোনো রূপরেখা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি।

ঢাকার মোটরযান থেকে যাবতীয় ফি বর্তমানে বিআরটিএ আদায় করলেও এক সময় তা আদায়ের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপরেই ছিল। ১৯৮৮ সালে বিআরটিএর কার্যক্রম শুরুর আগ পর্যন্ত ‘নগর শুল্ক’ নামে যানবাহন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করত সিটি করপোরেশন। সে সময় ঢাকা শহরে ঢোকার পথে যানবাহন থেকে আদায় করা হতো এ ‘নগর শুল্ক’। পরে যানবাহন থেকে যাবতীয় সব রাজস্ব আদায় শুরু করে বিআরটিএ। এর বিনিময়ে সিটি করপোরেশনকে প্রতি বছর কিছু টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়, যা চাহিদার তুলনায় ‘খুবই অপ্রতুল’ বলে দাবি করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ অনুযায়ী সরকারি সব ধরনের করের ওপর কর বসানোর এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের রয়েছে দাবি করে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ঢাকার অনেক সড়ক ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিআরটিএর কাছ থেকে রাজস্বের একটা অংশ সিটি করপোরেশন পেলে তা দিয়ে এ সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব।