সিএনজি স্ক্যাপ নিয়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Passenger Voice    |    ০৪:০১ পিএম, ২০২০-১২-১২


সিএনজি স্ক্যাপ নিয়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ সিলিং নির্ধারণ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে নতুন সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ করেছে প্রায় ১ যুগের বেশি সময় আগে। ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসা নতুন সিএনজি অটোরিকশা ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিবন্ধন দিয়েছিল বিআরটিএ। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার করে ২৬ হাজার গাড়ির সিলিং নির্ধারণ করা হয়।  ২০১৬ সালে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ২৬ হাজার গাড়ি স্ক্যাপ করে প্রতিষ্ঠাপন করা কাজ শুরু করেছিল বিআরটিএ। ঢাকা মহানগরীর ১৩ হাজার ও চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় ৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ইতিমধ্যে স্ক্যাপ করন শেষ করেছে । চট্টগ্রাম মহানগরীর ২০০৪ মডেলের ৩৬১৯ টি গাড়ির স্ক্যাপ করণ কার্যক্রম চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু করে বিআরটিএ চট্টমেট্রো সার্কেল।  প্রায় ১৬০০ গাড়ি স্ক্যাপ করনের পরে হটাৎ দুর্নীতির এক অভিযোগে স্ক্যাপ করন কার্যাক্রম বন্ধ হয়ে যায়। 

প্যাসেঞ্জার ভযেসের এক অনুসন্ধ্যান বলছে, চট্টমেট্রো-থ-১২-০৪৬৫, চট্টমেট্রো-থ-১২-০৭৪৮, চট্টমেট্রো-থ-১২-১১৩৯, চট্টমেট্রো-থ-১২-১০৩৩ নং গাড়ির মালিক চট্টগ্রামের পাহারতলী বার কোয়াটার এলাকার জনৈক মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম ২৯ ও ৩০ নভেম্বর বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পত্রে তিনি বলেন, চারটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে তিনি গত ১৭, ২৬ ও ২৭ নভেম্বর বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে স্ক্যাপ করনের জন্য গিয়েছেন। কিন্তু তার গাড়ি গুলো স্ক্যাপ না করে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিআরটিএ চট্টমেট্রো সার্কেলের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল হোসেন, অফিস সহকারী জামাল উদ্দিন ও অফিস সহায়ক মো. ইসলাম গাড়ি গুলো ফেরত দিয়েছে ।

অভিযোগের সূত্র ধরে নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে প্যাসেঞ্জার ভযেস। তিনি বলেন, আমি ১৭ নভেম্বর চট্টমেট্রো-থ-১২-০৪৬৫ নং গাড়ি নিয়ে বিআরটিএতে গেলে সহকারী পরিচালক তৌহিদুল হোসেন আমাকে বলে আমার মালিকানার তারিখ ঠিক নেই, এইটা ঠিক করে নিয়ে আসেন পরে আমি ঠিক করে নিয়ে আসলেও তিনি গাড়িটা স্ক্যাপ না করে ফেরত দিয়েছে। এরপর বাকী ২টি গাড়ি নিয়ে বিআরটিএতে গেলে তৌহিদুল হোসেন আমার গাড়ি ফেরত দেয়। এদিকে অভিযোগে তিনি লিখেছেন তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ চেয়েছে বিআরটিএ কর্মকর্তারা। তবে তিনি প্যাসেঞ্জার ভয়েসের কাছে বলেছেন চট্টমেট্রো-থ-১২-০২৮৪ নং গাড়ির মালিক সাবেক সেনা সদস্য পিয়াস বড়–য়ার পরামর্শে আমি বড়–য়া বাবু নামের এক বিআরটিএর স্টাফকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম । তবুও আমার গাড়িটি স্ক্যাপ করেনি। পরে তিনি আমার দেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। 

বিষয়টির সত্যতা জানতে চট্টমেট্রো-থ-১২-০২৮৪ নং গাড়ির মালিক সাবেক সেনা সদস্য পিয়াস বড়–য়ার সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমার গাড়ি স্ক্যাপ করতে বিআরটিএর কেউ আমার কাছে টাকা পয়সা চায়নি। আমিও কাউকে টাকা দিনাই। আমার বিষয়ে কেউ এমন অভিযোগ করলে আমি তার বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নিব। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর চট্টমেট্রো সার্কেলের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল হোসেন বলেন, বিআরটিএ একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যাক্রম ডিজিটাল। খোলা মাঠে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট ও আপনারা সাংবাদিক ভাইদের সামনে গাড়ি গুলো স্ক্যাপ করা হচ্ছে। এতে ঘুষ লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। আমরা যে গাড়ি গুলো কাগজপত্রের সাথে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বরের মিল পাচ্ছি সেগুলো স্ক্যাপ করছি সাথে সাথে। তবে যে সকল গাড়িতে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নং বুঝা যাচ্ছে না এগুলো আমরা আপাতত ফেরত দিচ্ছি। তবে পরবর্তী সময়ে এই গাড়ি গুলো বিশেষ ভাবে পরিদর্শন পূর্বক স্ক্যাপ করা হবে।