শিরোনাম
বাসে আগুনে গ্রেপ্তার আরও ১৫ জন
Passenger Voice | ১০:৫৯ এএম, ২০২০-১১-১৬
বাসে অগ্নিসংযোগকারী শনাক্তে পুলিশের ভরসা এখন সিসিটিভি ও ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ। এরই মধ্যে একাধিক এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলেও তা কিছুটা ঝাপসা থাকায় বাস পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্তদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে শিগগির অগ্নিসংযোগকারীদের নাম-পরিচয় পাওয়া যাবে বলে দাবি করছে পুলিশ। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলার তদন্ত করছে। এদিকে হঠাৎ রাজধানীতে ১২টি বাস পোড়ানোর ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রায় সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। এ নিয়ে বাস পোড়ানোর মামলায় ৪৭ জন গ্রেপ্তার হলো।
পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। অনেকে গা-ঢাকা দিলেও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হবে।
বাস পোড়ানোর ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে দুটি। এতে এজাহারনামীয় আসামি ৮৭। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা উল্লেখ না করলেও 'অনেক আসামি' উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনও গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। দুটি মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে শনিবার রাতে দুটি মামলায় দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হেদু ও বিএনপি কর্মী আখতারুজ্জামান। তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দু'জন ছাড়াও ১২ নভেম্বর রাজধানীতে বাস পোড়ানো, বিস্ম্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় শনিবার আরও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সংশ্নিষ্ট থানা পুলিশ। গতকাল রিমান্ড চেয়ে তাদের ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচন চলাকালে পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, শাহজাহানপুর, বংশাল, ভাটারা, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর ও উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১২টি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের বিপরীতে একটি, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার এলাকায় একটি, মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনির প্রধান গেটের বিপরীতে একটি, মতিঝিলের জোয়ারসাহারা বাস ডিপো রূপায়ন হাউজিং প্রজেক্টের সামনে একটি, বংশাল নয়াবাজারে একটি, সচিবালয় এলাকায় একটি, আজিজ সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশে একটি, কমলাপুরে শাহজাহানপুর রোডে একটি, ভাটারার কোকাকোলা মোড়ে একটি, বিমানবন্দর থানা এলাকায় একটি, খিলক্ষেতে একটি ও উত্তরার আজমপুরে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ সব ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা বাদে বাকি সাতটি থানায় ১১টি মামলা করা হয়। এ ছাড়া ককটেল বিস্ম্ফোরণ, পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে কয়েকটি থানায় আরও পাঁচটি মামলা করে পুলিশ। ১২ নভেম্বর রাতে দায়ের করা এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ এজাহারনামীয় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে অনেককে। মামলার পরপরই সংশ্নিষ্ট থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। এজাহারভুক্ত আসামির পাশাপাশি সন্দেহভাজন হিসেবেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিশেষ করে এজাহারনামীয় ছাড়াও সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযান চলায় বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডভিত্তিক বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্কটা বেশি ছড়িয়েছে। যে কারণে অনেকেই আত্মগোপনে গেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬টি মামলায় মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত