সব সিটি ও পৌরসভায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ

Passenger Voice    |    ০৪:০৫ পিএম, ২০২০-১১-০৭


সব সিটি ও পৌরসভায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ

'বাংলাদেশ নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ' নামে নতুন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি করা হচ্ছে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এই কর্তৃপক্ষ। ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বিলুক্ত করে নতুন এই সংস্থা গঠনে ইতোমধ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

নগর এলাকায় ছাড়পত্র ছাড়া পরিবহন-সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণে কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে এ খসড়ায়। সরকারি সংস্থাগুলোও অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নিতে পারবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ছাড়পত্র নিতে হবে এই নতুন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এসব শর্তের লঙ্ঘনে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় 'ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড'। পরে এই এলাকায় আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ার মহাপরিকল্পনা 'কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি)' বাস্তবায়নে বোর্ডের ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন আইন করে ডিটিসিএ গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ জেলায় সড়ক ও পরিবহন-সংক্রান্ত সব প্রকল্প সমন্বয়ের দায়িত্ব ডিটিসিএর। যে কোনো প্রকল্প গ্রহণে ডিটিসিএর ছাড়পত্র পেতে হয়। ২০ বছর মেয়াদি সংশোধিত এসটিপি (আরএসটিপি) অনুযায়ী প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল, দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, রাজধানীকে ঘিরে তিনটি বৃত্তাকার সড়ক এবং ছয় মহাসড়ককে যুক্ত করতে ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাস এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন হবে। এসব প্রকল্পের সমন্বয়ের দায়িত্ব ডিটিসিএ'র। ভবন তৈরিতে ডিটিসিএ'র কাছ থেকেই পার্কিং ছাড়পত্র নিতে হয়।

রাজধানীর বাইরে বাণিজ্যিক নগরে চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এসব প্রকল্প সমন্বয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। অনেক এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না করে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা, ফ্লাইওভার নির্মাণ করছে। প্রয়োজন ছাড়া প্রকল্প নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং হিতে বিপরীতের শঙ্কা রয়েছে। তাই দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকেও কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা হচ্ছে।

এ উদ্দেশ্যেই 'বাংলাদেশ নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ' নামে নতুন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়ার ওপর মতামত নেওয়া হচ্ছে। ডিটিসিএর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ব্যাপারে মতামত জানানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মজুমদার। মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত খসড়া সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদনের পর যাচাইয়ের জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। তারপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে উত্থাপন করা হবে সংসদে। এসব ধাপ পেরিয়ে সংসদে পাস হলে খসড়াটি আইনে রূপ নেবে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন-২০১২-তে ধারা ছিল ২২টি। নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায় তা বেড়ে হয়েছে ৩৭। আগের আইনে 'অপরাধ ও দণ্ড' সংক্রান্ত কোনো ধারা ছিল না। খসড়ায় বলা হয়েছে, নগর এলাকায় কেউ যদি কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া পরিবহন ও পরিবহন অবকাঠামো সংশ্নিষ্ট প্রকল্প নেয়, তা হলে দুই থেকে পাঁচ বছর জেল অথবা দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে। আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ট্রাফিক ছাড়পত্র না নিলে একই সাজার সুপারিশ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারের সুপারিশ করা হয়েছে খসড়ার ৩১ ধারায়।

খসড়ার ২০ ধারায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নগর এলাকায় কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা পরিবহন খাতের কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে আওতাভুক্ত এলাকার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রকল্প প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পেশ করবে।

খসড়ায় পরিচালনা পরিষদে সরকার মনোনীত একজন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আগের মতোই পদাধিকার বলে পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ঢাকার দুই মেয়র হবেন ভাইস চেয়ারম্যান।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ডিটিসিএ এখন শুধু রাজধানী ও আশপাশের পাঁচ জেলার পরিবহন-সংক্রান্ত প্রকল্প সমন্বয় করে। এ কার্যক্রম দেশের সব শহরাঞ্চলে বিস্তৃত করতে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।