দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই ঘটেছে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে

Passenger Voice    |    ১১:৪৩ এএম, ২০২০-১০-১৬


দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই ঘটেছে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে গত এক বছরের পরিসংখ্যান বলছে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে অবৈধ বা অননুমোদিত রেলক্রসিংয়ে। এসব দুর্ঘটনায় গড়ে মারা যাচ্ছে ১২ জন। কখনো ক্রসিং পার হতে গিয়ে, কখনো ট্রেনের ধাক্কায় যানবাহন থেকে ছিটকে পড়ে কিংবা কাটা পড়ে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। নিয়মনীতি না মানা, যত্রতত্র ক্রসিং চালু এবং রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লোকবল সংকটের কারণে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এবার এসব বিষয়ে কঠোর হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অবৈধ ক্রসিং বন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রসিংয়ের বিষয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কিছু অবৈধ ক্রসিংকে বৈধতা দিয়ে সেখানে গেটম্যান নিয়োগের চিন্তাভাবনা চলছে।

রেলের দুটি অঞ্চলে ২ হাজার ৬২১ ক্রসিংয়ের মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ৩৬৯ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজার ২৫২। পূর্বাঞ্চলে ৫৫৮ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯৭৮টি বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। অবৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৮১১ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২৭৪। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে এসব ক্রসিং বন্ধ করা যাচ্ছে না। মামলা করেও সুফল পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার শিকার হয়েছেন। অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করতে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সরদার শাহাদাত আলী।

এসব অবৈধ লেভেল ক্রসিং না থাকলে রেল চলাচল আরও স্বাভাবিক হতো জানিয়ে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ ক্রসিং তুলতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

উদাহরণ দিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে পাহাড়তলী ঝাউতলা এলাকায় অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার পর ওই গেটটি বন্ধের সুপারিশ করেন রেল কর্মকর্তারা। রেলওয়ের এ রকম সিদ্ধান্তের পর ক্রসিংটি বন্ধ করা হলেও পরদিন স্থানীয়রা সেটি খুলে দেয়। একইভাবে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর

বিবিরহাট এলাকায় কারখানার সামনে অবৈধ লেভেল ক্রসিং তৈরি করেছে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি। প্রকৌশল ও ভূমি বিভাগ থেকে আপত্তি জানানোর পরও আমলে নেয়নি তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে এলজিইডির অধীনে ২৫৩টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। সড়ক ও জনপথের ৬, পৌরসভা ৬৫, সিটি করপোরেশন ১৯, ইউনিয়ন পরিষদ ৩২৪, জেলা পরিষদ ১৩, বেসরকারি সংস্থা ৩, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩ এবং অন্য সংস্থার অধীনে ৯২টি ক্রসিং রয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ ক্রসিং কার নিয়ন্ত্রণে তা জানে না রেল কর্তৃপক্ষ।

রেল কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাঞ্চলের ৮০ শতাংশ ক্রসিংয়ে এলার্ম নেই, টেলিফোন নেই ৭০ শতাংশে। দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকা এ সিস্টেমকে এবার সচলের চেষ্টা চলছে। ৭৭টি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান। ৪৮১টি ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলেও টেলিফোন আছে ৮৬ গেটে। ট্রেন আসার আগে সতর্কতামূলক এলার্ম আছে ৭৯টিতে।

এসব সমস্যা সমাধানে সার্ভে শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন। তিনি বলেন, লেভেল ক্রসিংয়ে সাধারণ ওভার বা আন্ডার পাস থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বর্তমানে দুর্ঘটনা রোধে এ ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। রেলকে গতিশীল করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সরদার শাহাদাত আলী বলেন, নানা কারণে অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করা যাচ্ছে না। অনেক সময় আমাদের না জানিয়ে ক্রসিং তৈরি করে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামীতে হয়তো এসব সমস্যার সমাধান হবে।