দুর্নীতিবাজ সানাউল হক ও মামুনের হাতে সিলেট বিআরটিএর স্টিয়ারিং

Samsuddin Chowdhury    |    ১২:০৩ পিএম, ২০১৯-১২-০৩


দুর্নীতিবাজ সানাউল হক ও মামুনের হাতে সিলেট বিআরটিএর স্টিয়ারিং

‘ঘুষ খাইলে কী হয়, জেল হয়, ফাঁসি তো আর হয় না’। এ মন্তব্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক কর্মকর্তার। এমন দৃষ্টিভঙ্গির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীতে ছেয়ে গেছে পুরো সংস্থাটি। ফলে ক্ষতি হচ্ছে সরকারের, ভুগছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই দুর্নীতিবাজদের। তারা দেদার চালিয়ে যাচ্ছেন অপকর্ম। 

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই চালকের আসনে থাকেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের দিকনির্দেশনাতে চলে প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিআরটিএর স্টিয়ারিং অনেক বছর ধরেই দুর্নীতিবাজদের হাতে। তাদের কব্জা থেকে বিআরটিএকে মুক্ত করতে শীর্ষ কর্মকর্তারা যারপরনাই চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই এ থেকে মুক্তি মিলছে না রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির। 

বিআরটিএ সিলেট সার্কেলে অনেক কাজ সরকারি নিয়মের বাইরে ‘ঘুষ বাণিজ্য’র মাধ্যমে হলেও সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করাতে গেলে হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতা সুফল পাচ্ছেন না অন্যদিকে বাড়ছে দালালদের সংখ্যাও। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, নাসির উদ্দিন আহমেদ মনসুর নামে এক ব্যক্তি তিন বছর আগে টয়োটা ব্যান্ডের একটি গাড়ি ক্রয় করেন। এরপর গাড়ির ক্রেতা বিআরটিএ সিলেটে মালিকানা বদলীর জন্য যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিআরটিএ থেকে কোন কিছু না বলে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট জানানো হয় জানুয়ারিতে যোগাযোগ করার জন্য।

পরে তিনি আবার ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি যোগাযোগ করেন। তখন তাকে জানানো হয় গাড়িটির নথি পাওয়া যাচ্ছে না, কয়েকমাস পরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়। সেই অনুরোধের পর গাড়ির মালিক ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল ফের বিআরটিএ সিলেট অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, গাড়িটি নথি হারিয়ে গেছে। একই সাথে মালিককে গাড়ির বিআরটিএ সিলেট অফিসের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার নির্দেশ দিয়ে সহকারী পরিচালকের রুম থেকে বের করে দেন। এরপরও গাড়ির মালিক আরও কয়েকবার বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করলেও কোন সদুত্তর পান নি।

এভাবেই বছরে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করছেন বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক ও মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট।

শুধু তাই নয়, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সে জালিয়াতির মাধ্যমে বাণিজ্য, পরীক্ষায় টাকা দিলে পাশ করানোর নামে বাণিজ্য, ব্যবহারিক পরীক্ষায় হাজিরা দিলেই লাইসেন্স, নিয়মবহির্ভূত ভাবে ১৬ গ্যাটিসকে অফিস করার অনুমতি এরমধ্যে তিন গ্যাটিসকে রেকর্ড রুমের দায়িত্ব দেয়া, মালিকানা বদলিসহ নানা ঘটনায় ‘কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য’ করা বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনের অপসারণ দাবি করেছেন সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। একই সাথে এই দুই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করছেন সবাই।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি নিয়ম না মেনে বাইরের লোকদের অফিস করার অনুমতি দিতে পারেন না। সেজন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা আশা করবো সংশ্লিষ্ট দপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসলাম উদ্দিন বলেন, বিআরটিএ সিলেট অফিসের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিএর ভেতরে বাইরে দালালের দৌরাত্ম্য। ভেতরের সঙ্গে যোগসাজশ না থাকলে কিভাবে বাইর থেকে দালালরা ভেতরে এসে কাজ করে। দালাল, দুর্নীতি, অনিয়মের কারণে অতীতে বিআরটিএর দুর্নাম ছিল। ভবিষ্যতে এমন হোক, তা আমি চাই না। আমি কমিশনের অংশীদার নই। 

আমরা নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করতে চাই। আপনারা স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন। নতুন সরকারের বার্তা আমরা দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। বিআরটিএতে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হয়। একসময় গাড়ি না এনেও বিআরটিএ থেকে গাড়ির ফিটনেস নেয়া যেত। এখন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আমি পুরোপুরি পরিবর্তন চাই।