শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:১৪ পিএম, ২০২৬-০৮-২৯
টানা ৩১ ঘণ্টার ভয়াবহ যানজটের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। আষাড়িয়ার চর ব্রিজের সংস্কারকাজের জন্য একটি লেন বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যানজটের তীব্রতা কমলেও শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকেও সোনারগাঁও, মেঘনা, গজারিয়া ও দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে ধীরগতি ও যানবাহনের জটলা। ফলে স্বস্তি ফিরলেও পুরোপুরি কাটেনি যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোনারগাঁও, মেঘনা টোল প্লাজা, গজারিয়া, পুরান বাউশিয়া, দাউদকান্দি টোল প্লাজা ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে এবং কোথাও কোথাও জটলা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজের জন্য ঢাকামুখী একটি লেন বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কে যানজটের সূত্রপাত। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকায় সেই যানজট একপর্যায়ে আষারিয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, অতিবৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। এর মধ্যে আষারিয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ মিটার অংশে মাইক্রোকংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়। ঢালাই শক্ত হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় একটি লেন দিয়ে সীমিতভাবে যানবাহন চলাচল করানো হয়।
একটি লেন বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক যানবাহনকে সীমিত জায়গা দিয়ে চলতে হয়। ফলে প্রথমে আষারিয়ার চর এলাকায় যানজট তৈরি হলেও পরে সেটি পেছনের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। কোথাও কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।
চৌদ্দগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রী আলাউদ্দিন খিলজীর বলেন, ভোর ৬টায় বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। পরিকল্পনা ছিল সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে অফিসে যাওয়ার। কিন্তু আট ঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তায় কাটিয়ে আমি দাউদকান্দি পার হয়ে মেঘনা এলাকার কাছাকাছি এসেছি।
আলাউদ্দিন বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার যানজট পেরিয়ে এসেছি। এরপরও সামনে যানজট রয়েছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকার পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কাউকে দেখলাম না। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে মাইলের পর মাইল যানবাহন আটকে থাকার সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী, কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সংস্কার করা অংশের ঢালাই শক্ত হয়ে যাওয়ার পর শনিবার সকালে বন্ধ থাকা লেনটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফলে আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট কমতে থাকে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম জানান, শনিবার সকালে আষারিয়ার চর ব্রিজের বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় বিভিন্ন স্থানে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে গাড়ির ভেতর ঘুমিয়েও পড়েছিলেন। ফলে লেন খুলে দেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হলেও পুরো মহাসড়কের গাড়ির চাপ একসঙ্গে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত