শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৮-২৭
ভোতি কোশি নদীর পানি বৃদ্ধির জেরে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপরপাশে চীনের তিব্বত প্রদেশে নিখোঁজদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে পৌঁছেছে। এই নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনই বিদেশি নাগরিক।
আজ বৃহস্পতিবার নেপাল এবং তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। নেপালের কর্মকর্তারা নিখোঁজদের মধ্যে ৮২৬ জন নেপালের। এই নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনই বিদেশি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পর্যটন বিভাগ।
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়া, ৩৩ জন ব্রিটেন, ২৫ জন কানাডীয়সহ দুই ডজন দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বন্যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমা কাদা ও পাথরের স্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, সামনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।
“এই সংখ্যা বাড়বে, কারণ আমরা তল্লাশি পুনরায় শুরু করেছি এবং আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে,” রয়টার্সকে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে।
আর চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক আছেন ২৬০ জন। এছাড়া বন্যার ফলে সৃষ্ট কাদা-পাথর-আবর্জনারর ধ্বংস্তূপ থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সিসিটি টিভির প্রতিবেদনে।
নিখোঁজদের সবাই তিব্বতের গিরং জেলার। ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানের আঘাত এই জেলার ওপর দিয়েই গিয়েছে।
যাচাইকৃত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ কয়েক ডজন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ভাটির দিকে বয়ে যাওয়া স্রোতে নেপালে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে।
নেপালের আকস্মিক বন্যা আঘাত থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন কেশব প্রসাদ বরাল। তবে নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়স্ক কেশব রয়টার্সকে তিনি বলেন, “হঠাৎ দেখলাম, বিশাল এক কাদার স্রোত সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। যত এগিয়ে আসছিল, ততই উঁচু হচ্ছিল স্রোত। যখন দেখলাম এটি আমার বাড়িতে প্রায় ঢুকে পড়েছে, তখন আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু সে কাদার স্রোতে ভেসে যায়।”
চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে কেশবকে তার বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে।
“আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি”, রয়টার্সকে বলেন কেশব।
সূত্র : রয়টার্স
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত