শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৬ এএম, ২০২৬-০৮-২৫
এলএনজির উচ্চ দাম ও সরবরাহকারীদের কম সাড়ার কারণে আমদানি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই টার্মিনাল সচল থাকলেও নতুন কার্গো না এলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ আবারও কমে যেতে পারে। আগামীকাল বুধবার সামিটের টার্মিনালের জন্য একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য ১ সেপ্টেম্বরের আগে কার্গো আসার সম্ভাবনা নেই। ফলে বর্তমানের এলএনজি সরবরাহও ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৮টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গেছে ১৬১ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৭৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ মোট সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন আসছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।
সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বাস্তবে চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট বলে খাত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা। স্বাভাবিক সময়েও প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে কোনোমতে চাহিদা সামাল দেওয়া হয়। ফলে এলএনজি সরবরাহে সামান্য কমতিও গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
কার্গো নিয়েই অনিশ্চয়তা
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কাল বুধবার সামিটের টার্মিনালের জন্য একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা। তবে কার্গোটি সময়মতো আসবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালের পরবর্তী কার্গো ১ সেপ্টেম্বরের আগে আসার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। নতুন কার্গো সময়মতো না এলে এ সরবরাহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সরবরাহ বাড়ানোরও সুযোগ নেই।
চড়া দাম, কম সাড়া
এলএনজি আমদানিতে কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। এসব উৎস থেকে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি পাওয়া যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খোলাবাজারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে খোলাবাজারে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১১ ডলারের মধ্যে। এপ্রিলে তা বেড়ে ১৪ থেকে ১৫ ডলারে ওঠে। গত মাসে দাম ২২ ডলারে পৌঁছায়। চলতি মাসে ২৪ ডলারের বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে সরকারকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় ইউরোপসহ শীতপ্রধান দেশগুলো শীতের আগেই এলএনজি মজুত করছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়েছে। ফলে দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় কার্গো পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবার দরপত্র আহ্বানের সময় আগের চেয়ে বেশি দর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম এক ডলার বাড়লে একটি কার্গোতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এপ্রিলের দরের তুলনায় এখন একটি কার্গো কিনতেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বেশি লাগছে।
ডিপিএমের কার্গোও আসেনি
কম দামে এলএনজি কেনার লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি মাসে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও একটিও আসেনি। এতে দেশে গ্যাসের সংকট আরও বেড়েছে। পরে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে সরকার। গত ১৭ আগস্ট তিনটি এবং সেপ্টেম্বরের দুটি কার্গোর জন্য দরপত্র দেওয়া হয়। ২৩-২৪ আগস্ট ও ৪-৫ সেপ্টেম্বরের কার্গোর জন্য ২২ ডলারের কম দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। ১৮ আগস্টের দরপত্রে ১-২ সেপ্টেম্বরের কার্গোর জন্য ২৪ ডলারের নিচে দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় সৌদি আরামকো।
১৯ আগস্টের দরপত্রে ২৬-২৭ আগস্টের কার্গোর জন্য প্রতি ইউনিট ২৫ দশমিক ৩১ ডলার দর দেয় বিপি। তবে ২৯-৩০ আগস্টের কার্গোর জন্য আরও বেশি দর আসায় সেটি না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের আরও তিনটি কার্গোর জন্য রোববার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
শিল্পে গ্যাস বাড়াতে বিদ্যুতে চাপ
এলএনজি সংকটের শুরু থেকে প্রায় এক মাস শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছিল। এতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শনিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ছয় হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে গড়ে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হয়। প্রয়োজন হলে উৎপাদন চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিপিসিকে যথাসম্ভব ফার্নেস অয়েল মজুত রাখতে বলা হয়েছে।
এরপরও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে রেশনিং করে লোডশেডিং দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ঢাকায়, এরপর জেলা শহরে এবং সবশেষে প্রত্যন্ত এলাকায় লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি ও রাইজিং ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এখন কাছাকাছি। তবে ফার্নেস অয়েল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের জন্য এ শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, শিল্পের গ্যাস সংকট কাটানো জরুরি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা দরকার। সৌজন্যে সমকাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত