শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:০৭ পিএম, ২০২৬-০৮-২৩
মানুষের হাতে থাকা টাকা ব্যাংকে ফিরছে। কোরবানির ঈদের পর জুনে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরেছে।
এক মাসেই ব্যাংকে ফিরেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এতে গত জুন শেষে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের স্থিতি কমে তিন লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। যদিও গত এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বা সাড়ে ১৩ শতাংশ। মূলত দুই ঈদ ঘিরে মার্চ ও মে মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের বড় উল্লম্ফন হয়েছিল।
এদিকে গত জুনে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা এক মাসের হিসাবে রেকর্ড। তার পরও জুনে বার্ষিক আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৭৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ১১.৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট মানুষের হাতে অর্থ রাখার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
এখনো ব্যাংকে অর্থ রাখার পরিবর্তে হাতে নগদ টাকা রাখাকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছেন অনেকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং আমানতকারীদের উদ্বেগ দূর করা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, মে মাস শেষে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে ১২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা।
কোরবানির ঈদ শেষে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে ফিরে আসার সময়েই এই পরিবর্তন হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংক খাতে আমানতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মে মাস শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে আমানত বেড়েছে ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা বা ১.৮৭ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। রোজার ঈদের মাস মার্চে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছিল ১৬ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। ঈদ শেষে এপ্রিল মাসে সেই অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসে। ফলে ওই মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ কমে যায় তিন হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। কিন্তু কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসে চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ওই মাসে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। তবে জুনে ঈদের পর সেই প্রবণতার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মে মাসে ব্যাংকের বাইরে চলে যাওয়া বিপুল নগদ অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকে ফেরায় মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
মাসিক হিসাবে জুনে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ কমলেও এক বছরের চিত্রে তা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের জুনে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে হয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বা ১৩.৪৭ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয়, জুনে ঈদের পর নগদ অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে ফিরলেও ব্যাংকের বাইরে থাকা মোট নগদ অর্থ এখনো আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে শুধু ঈদকেন্দ্রিক মৌসুমি চাহিদা নয়, মানুষের অর্থ রাখার প্রবণতার মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নগদ অর্থ ব্যাংকে ফেরার সঙ্গে জুনে ব্যাংক খাতের আমানতেও বড় ধরনের বৃদ্ধি হয়েছে। এক মাসে ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা আমানত বৃদ্ধি সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এর আগে মে মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছিল মাত্র দুই হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর রোজার ঈদের মাস মার্চে আমানত বেড়েছিল ৩৭ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত বছরের জুন শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৭৪ শতাংশ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত