শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৮-২৩
কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে আগুনে নিহত সাভারের আহমেদ বাবুর (৪০) লাশ শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে নিজ বাড়ি আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে পৌঁছায়। লাশ পৌঁছানোর পর স্বজন ও পরিচিতজনেরা বাড়িতে ভিড় করেন। প্রিয় মানুষটির নিথর মুখ একনজর দেখতে আসা স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে আমিনবাজারের হিজলা পাঁচ মসজিদ মাঠে আহমেদ বাবুর নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় বরদেশী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্ত্রী বুবলী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের কান্নায় সেখানে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
আহমেদ বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে। তিনি কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। আমিনবাজার জমিদার মার্কেটে তাঁর ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে একটি দোকান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার কাজে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার কলকাতায় যেতেন বাবু। সর্বশেষ গত সোমবার সড়কপথে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে কলকাতায় যান তিনি। ওঠেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগলে তিনি সেখানেই মারা যান। কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশির একজন ছিলেন আহমেদ বাবু।
বুধবার বাবুর মৃত্যুর খবর সাভারে পৌঁছালে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাবুর স্ত্রী বুবলী বলেন, ‘আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। শিশু বয়সেই ওরা বাপহারা হলো। আমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে এখনো বুঝতে পারছে না, ওর বাবা আর নেই।’
বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘বাবুর জীবিত ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল পরিবার। শেষ পর্যন্ত সেই পরিবারকে তাঁর লাশ গ্রহণ করতে হলো—যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাবুর লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। আজ সকালে জানাজা শেষে স্থানীয় বরদেশী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত