শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৮ এএম, ২০২৬-০৮-২৩
মেট্রোরেল স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা চালুর পর গাড়ি ও মোটরসাইকেল রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। কমেছে যত্রতত্র গাড়ি ও রিকশা দাঁড় করানোর প্রবণতাও। তবে পার্কিং ফি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা। বিশেষ করে অল্প সময়ের জন্য গাড়ি দাঁড় করালেও নির্ধারিত সময়ের পুরো ফি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি অনেকের।
গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরায় উত্তর মেট্রো স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্টেশনটির দুই পাশে নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দাগ কেটে গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিং স্পেস চিহ্নিত করা হয়েছে। দুই ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত ফি আদায় করতে দেখা যায় পার্কিং ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মাস্টার এন্টারপ্রাইজের কর্মীদের।
এ সময় অন্তত চারটি গাড়ি এবং একাধিক মোটরসাইকেল নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় রাখা ছিল। তবে স্টেশনের সিঁড়ির নিচে ও ফুটপাতেও কয়েকটি মোটরসাইকেল পার্কিং করতে দেখা যায়। এমনকি সিঁড়ির সঙ্গে দুটি সাইকেল বেঁধে রাখতেও দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজার থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনে গাড়ির মালিককে আনতে আসা চালক মোস্তাফিজ ৬০ টাকা পার্কিং ফি দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, আগে এখানে গাড়ি রাখার জন্য টাকা দিতে হতো না। এখন ফি দিতে হচ্ছে।
মোস্তাফিজ বলেন, মার্কেটেও গাড়ি পার্কিং করলে টাকা দিতে হয়। এখানেও দিতে হচ্ছে। তবে এতে গাড়ি কমেছে এবং যত্রতত্র পার্কিংও হচ্ছে না।
মেট্রো থেকে যাত্রী নিতে আসা উবার চালক শামীম বলেন, যাত্রী মেট্রো থেকে উবার কল দিয়ে এখানে অপেক্ষা করতে বলেছেন। পার্কিং ফি যাত্রীই দেবেন। তবে ফি নেওয়ার কারণে এখানে একটা শৃঙ্খলা এসেছে। কেউ যত্রতত্র গাড়ি বা বাইক রাখছে না। এতে মেট্রো ব্যবহারকারীদের সুবিধা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক শাহজাহান বলেন, যারা বাইক বা গাড়ি রেখে উত্তরা বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দেন, তাদের জন্য পার্কিং ফি কিছুটা চাপের। তবে মেট্রোর অনেক যাত্রীই গাড়ি রেখে মেট্রো ব্যবহার করেন।
আরেক মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর বলেন, যেখানে-সেখানে গাড়ি-বাইক রাখার চেয়ে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করায় শৃঙ্খলা ফিরছে। তবে ভাড়ার হার বেশি। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা হিসেবে ফি নির্ধারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সারা দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ থাকলে ভালো হয়।
তবে পার্কিং ফি নিয়ে আপত্তি রয়েছে শিমুল নামে আরেক চালকের। তিনি বলেন, শূন্য থেকে দুই ঘণ্টা-এভাবে ফি নির্ধারণ করা ঠিক হয়নি। গণপরিবহন থেকে কেউ নামবে, তাকে নিতে পরিবারের কেউ আসবে। কাউকে নামিয়ে দিতে এসে এক মিনিট দাঁড়ালেও যদি দুই ঘণ্টার পার্কিং ফি দিতে হয়, সেটা অন্যায়।
পার্কিং ফি চালুর পর মেট্রো স্টেশনের আশপাশের ফুটপাতে হাঁটার পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। অভি নামে এক যাত্রী বলেন, আগে মেট্রোর ফুটপাত ও সামনের সড়কে যাত্রী, রিকশা, গাড়ি ও মোটরসাইকেল একাকার হয়ে যেত। এতে যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি হতো। এখন রিকশার জটও কমেছে।
মেট্রো স্টেশনের সিঁড়ি ও ফুটপাতে অটোরিকশা-রিকশা দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। মাস্টার এন্টারপ্রাইজের এক কর্মী বলেন, আগে রিকশাগুলো সিঁড়ির পাশে ও মেট্রোর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকতো। পার্কিং ফি চালুর পর এখন সেখানে কোনো রিকশা চালককে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।
উত্তরা উত্তর স্টেশনসংলগ্ন মোবাইল ব্যবসায়ী সাগর বলেন, অনেকেই স্টেশনে গাড়ি-মোটরসাইকেল রেখে আমাদের দোকানে আসতেন। এখন সেটা কিছুটা কমেছে।
উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে ডিএমটিসিএলের নির্ধারিত পার্কিং ফির তালিকার একটি ব্যানার টানানো রয়েছে। সেখানে কার বা জিপ গাড়ির জন্য দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ৬০ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ৩০ টাকা, সাইকেলের জন্য ১০ টাকা এবং মাইক্রোবাস বা হায়েসের জন্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক পার্কিংয়ের বিশেষ প্যাকেজের কথাও উল্লেখ রয়েছে। উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনেও একই ধরনের পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পক্ষ থেকে তিনটি মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য জায়গা ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও ডিএমটিসিএলের দাবি, স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ওসমান গনি বলেন, তিনটি স্টেশন তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই বছরের চুক্তিতে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যদি কোনো ধরনের অর্থ আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, গত ৮ জানুয়ারি উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে কার, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য জায়গা ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, মাহি ইন্টারন্যাশনাল ও ভূমিস লিমিটেডকে যথাক্রমে তিন স্টেশনের পার্কিং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সূত্র জাগো নিউজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত