শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১১ এএম, ২০২৬-০৮-২১
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) বা ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের ফাঁকে নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরটি দ্বিপক্ষীয় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রথম সফরটি দ্বিপক্ষীয় হওয়া উচিত। আমাদের একে অপরকে নিজেদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো উচিত, বুঝতে পারছেন?’
বাংলাদেশ ও ভারত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সফরের সুস্পষ্ট ফলাফল থাকা দরকার। পারস্পরিক সম্মান ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করেই এমন সফর হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। এসব বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। সময় উপযুক্ত মনে হলে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত। দুই দেশকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে কয়েকটি বিষয়ে আগে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিষয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের পক্ষেও এ উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘ভারত যদি সত্যিই সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায়, তাহলে তাদের আজকের বাংলাদেশকে বুঝতে হবে।’ বর্তমান বাংলাদেশে শেখ হাসিনা বা তার দল রাজনৈতিকভাবে আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরে ‘সম্মানজনক অভ্যর্থনা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন পরবর্তী পদক্ষেপ ঢাকার ওপর নির্ভর করছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে স্বীকার করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ও ভারতকে মতপার্থক্য পেছনে ফেলে পারস্পরিক ও নিঃশর্ত আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাক্ষাৎ করলে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়া প্রয়োজন। মোদির পক্ষ থেকে তিনি তারেক রহমানকে এই বার্তাও দিয়েছেন যে ভারত সফরে তাকে তার প্রাপ্য সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে।
ত্রিবেদী বলেন, সফরটি ‘স্মরণীয়’ হবে এবং এর সুফল দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাবে।
এর আগে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
তবে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের পর এই প্রক্রিয়া ‘বিঘ্নিত’ হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা দণ্ডিত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে শহীদুল করিম বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’
বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত