সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার ও সহকর্মীরা

Passenger Voice    |    ০৫:০৮ পিএম, ২০২৬-০৮-২০


সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার ও সহকর্মীরা

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ চারজনের মরদেহ বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তার স্বজন ও সহকর্মীরা। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা। তাদের দাবি- দ্রুত যেন তাদের ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিসহ চারজনের মরদেহ যেন দেশে আনা হয়।

এদিকে বাড়িতে থাকা দেবাশীষের আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো বুঝতে পারছে না তার বাবা দেবাশীষ, মা আফসানা শিম্মিন ও ছোট ভাই শর্ণশীষ দত্ত আর নেই। আর কখনোই বাবা-মা ও ভাইয়ের দেখা পাবে না সে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের ভিড়। তারা সান্ত্বনা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের। বাড়ির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় প্রতিদিনের মতোই খেলছিল দেবাশীষ দত্তের মেয়ে মহিমা দত্ত। যাকে দেবাশীষ ‘পাখি’ বলে ডাকতেন। বারান্দা থেকেই পরিচিত তার বয়সীদের ডেকে বলছিল কখন খেলবা? বিকেলে চলে এসো আমাদের বাসায়। একসাথে খেলবো।

দেবাশীষ দত্তের আত্মীয় ভারতে অবস্থানরত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দীর বরাত দিয়ে দেবাশীষের সহকর্মী স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ শনাক্তকরণের কাগজপত্রসহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পেতে কাগজপত্র কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের কলকাতা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সংক্রান্ত সব কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দেবাশীষসহ পরিবারের চারজন সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

ভারতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন দেবাশীষের স্বজন ও সহকর্মীরা। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)  দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন ৯ জন বাংলাদেশি। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন মারা যান।

কুষ্টিয়া একই পরিবারের নিহত চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আত্মীয়-স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।