সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

Passenger Voice    |    ১১:১২ এএম, ২০২৬-০৮-২০


সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

বান্দরবান পৌরসভার প্রধান সড়ক, বিশেষ করে সদর হাসপাতাল সড়কটি খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ না করায় সড়কের বেশিরভাগ অংশে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।এতে জনদুর্ভোগ বেড়েই যাচ্ছে।

পৌর এলাকার বৌদ্ধ বিহারের সামনে থেকে সদর হাসপাতালের প্রবেশমুখ পর্যন্ত সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বৌদ্ধ বিহার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়, বন বিভাগ, বান্দরবান সরকারি কলেজ, জেলা কারাগার, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সদর হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল সড়কের অধিকাংশই খানাখন্দে ভরে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন স্থানে সড়কে পানি ও কাদামাটি জমে থাকায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এই সড়কে চলাচলরত পথচারীসহ স্থানীয়দের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে হাসপাতালে যাওয়া-আসা করা রোগীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. টিপু জানান, বান্দরবান একটি পর্যটন জেলা। কিন্তু এই জেলার বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা শোচনীয়। বিশেষ করে হাসপাতাল সড়কটি যেন সড়ক নয়, একটি নিখাদ মৃত্যুফাঁদ। তিনি বাংলানিউজকে আরও বলেন, এই সড়কে যে একবার চলাচল করে, তার আর যেতে ইচ্ছে করে না।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী মংম মারমা বলেন, সরকার প্রতিবছর উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে, কিন্তু বান্দরবান সদর হাসপাতালের সড়কটি ঠিক হয়েও হয় না। সড়কের বেশিরভাগ অংশই ভাঙা এবং গর্তে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের এই বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত কাজ করা দরকার।

ইজিবাইক (টমটম) চালক রমজান জানান, প্রতিদিন বাজার থেকে তাদের নিউ গুলশান ও কালাঘাটা যেতে হয়। তবে বৌদ্ধ বিহার থেকে শুরু করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়, বন বিভাগ, বান্দরবান সরকারি কলেজ, জেলা কারাগার, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সদর হাসপাতালের সামনে সড়কে যে পরিমাণ ভাঙাচোরা, তাতে একদিন গাড়ি চালালে পরের দিন গাড়ির কাজ করতে হয়। সেই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগেরও সীমা নেই।

জেলার সিভিল সার্জনও এই দুর্ভোগের কথা জানান। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশায় আক্ষেপ জানিয়ে রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত এই সড়ক মেরামতের আহ্বান জানান।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমি হাসপাতাল সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কার হলে জনদুর্ভোগ কমে আসবে।’

বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া জানান, বান্দরবানে সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন লাইন স্থাপনের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক কেটে কাজ করায় ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্ষাকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করবে পৌরসভা।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে সড়কে চলাচল করতে অনেক জনদুর্ভোগ হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। তবে খুবই দ্রুত সময়ে হাসপাতাল সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।’