শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩৭ এএম, ২০২৬-০৮-১৯
নানা অঘটনের পর মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোদমে চালুর সুযোগ তৈরি হলেও এবার স্টকসংকটে ভুগছে এক্সিলারেট এনার্জির (এমএলএনজি) টার্মিনালটি। মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করছে টার্মিনালটি।
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে স্টকসংকটে সরবরাহ কমে মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে, ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকের দুর্ভোগ বেড়েছে।
কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়া ও একটি কার্গো গ্রহণ না করায় আমদানি-নির্ভর গ্যাস ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; সংকট কাটাতে দ্রুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত জুলাইয়ে এ টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তোলার পর স্বল্প পরিসরে চালু করা হয়েছিল। এবার পুরোপুরি চালু করার জন্য প্রস্তুত থাকলেও এলএনজির স্টক না থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৬০০ মিলয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাস রূপান্তরিত করে সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে সামিটের এসএলএনজি টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে (দুটি মিলে মোট ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট)।
গতকাল মঙ্গলবার সামিটের এসএলএনজি টার্মিনাল থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে যাচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগে গত শনিবার দুটি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হলেও রবিবার তা কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। গতকাল তা আরও কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। স্টক না থাকায় এমএলএনজির টার্মিনালটি অনেকটা বন্ধ হতে চলেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার (গতকাল) মহেশখালীর দুটি স্টেশন মিলে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। স্টক না থাকায় পুরোদমে এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমাতে হয়েছে। জাহাজ সংযুক্ত না করা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না। তবে এলএনজিবাহী জাহাজ আসার পথে রয়েছে।
গত ২১ জুলাই এমএলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ হয়ে যায় ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ। দেশে সংকট নিরসনের জন্য অপর টার্মিনাল এসএলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছিল। মেরামতের পর ক্ষুদ্র পরিসরে একটি বয়লার চালুর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে এমএলএনজি। কয়েক দিনের মধ্যে এলএনজি জাহাজ রিসিভ না করায় বন্ধ হয়ে যায় সামিটের টার্মিনাল। আবার এটি চালু হলেও স্টক সংকটে পড়ে এমএলএনজি টার্মিনাল। সব মিলিয়ে গ্যাসসংকটে মানুষের দুর্ভোগ কোনোভাবেই কমছে না। আগে থেকেই চলমান গ্যাসসংকট আরও তীব্র হয়েছে। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহক–সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সাম্প্রতিক সরবরাহ-বিঘ্নে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
এদিকে সংকটের মধ্যে সৌদি আরামকো থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী ‘আলহামরা’ কার্গো গ্রহণ না করায় জাহাজটি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ না করেই ফেরত যাচ্ছে। এ জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনিগ্লোবালের পরিচালক নুরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, জাহাজটির এলএনজি গ্রহণ করেই ফেরত পাঠানো যেত। কিন্তু তা করেনি। এর ফলে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরাও সংকটে পড়েছেন। রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা অনিশ্চয়তায় চলতি বছর বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিও চাপে পড়েছে। কাতার এনার্জি ২০২৬ সালে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত কার্গোর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। এর ফলে বছরের বাকি সময়েও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় আমদানির যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি জাতীয় গ্রিডে প্রভাব ফেলে। ফলে একটি কার্গো গ্রহণে জটিলতা কিংবা টার্মিনালের সরবরাহ কমে গেলেই গ্যাসের সামগ্রিক সংকট দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে। তাই ফরেন রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোসহ গ্যাসসংকট দূর করতে হলে দ্রুত নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান করতে হবে এবং উৎপাদন কমে যাওয়া কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সূত্র খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত