শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৮-১৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে প্রায় দুই কিলোমিটার পর ট্রেন থামাতে হয়। একইভাবে ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে একই স্থানে প্রতিনিয়ত অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিতে হচ্ছে ট্রেনের।
বিভিন্ন সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রেলওয়ের ভাষায় পাইলটিং পদ্ধতিতে চালনোর জন্য এখানে এক সপ্তাহ ধরে ট্রেন থামাতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রেনেরই নিয়মিত বেশ কিছু সময় দেরি হচ্ছে। ট্রেন চলাচলে রয়েছে ঝুঁকি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের আশপাশের এলাকায় সংকেত পদ্ধতির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে।
এতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। যেসব যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে, তা রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই, বাজারেও সহজলভ্য নয়। আবার কিছু যন্ত্রাংশ অনেক দামি। এসব কারণে ট্রেন চলাচল চরম ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ট্রেন পরিচালনায় সিগন্যাল অর্থাৎ সংকেত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ট্রেন চলা ও থামার জন্য লাল, সবুজ, হলুদ সংকেত ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব পরিচালনায় যে পোস্ট থাকে সেগুলোতে বিশেষ তারের ব্যবহার হয়। রয়েছে ট্রান্সফরমার, চার্জারসহ নানা যন্ত্রাংশ। চোর আর দুর্বৃত্তদের দৃষ্টি এখন এসব যন্ত্রাংশে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া, আখাউড়া-সিলেট পথের হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া পর্যন্ত এলাকায় নিয়মিত সংকেতের যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে।
সম্প্রতি আখাউড়া বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় চুরি বেড়ে গেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, বাইপাস এলাকায় ডিজিটাল পদ্ধতির বদলে পুরনো পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন সংকেত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সংকেত পরিচালনায় বিভিন্নস্থানে বক্স বসানো থাকে। এসব বক্স ভেঙে তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি আখাউড়ার দেবগ্রাম ও বাইপাস এলাকায় বক্স ভেঙে টার্মিনাল, ফিউজ, রিলে, ট্র্র্যাক ফিড চার্জার, নাট ইত্যাদি চুরি হয়ে যায়।
বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, যেসব মালামল চুরি হচ্ছে সেগুলো বাজারে অপ্রতুল ও বেশ ব্যয়বহুল। তাৎক্ষণিক এসব মালামাল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত মালামাল চুরির কারণে স্টেশনের একটি অংশে ট্রেন চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। আখাউড়া স্টেশনের কাছে তিন দিকের আউটার সিগন্যাল কার্যকর না থাকার কারণে পাইলটিং করে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে ট্রেন পরিচালনায় যেমন দেরি হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনারও শঙ্কা রয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ের জংশন স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মো. জোবায়ের বলেন, ‘ইদানিং যন্ত্রাংশ চুরি বেড়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ রেলওয়ে থানা পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় বেশি চুরি হচ্ছে। বাইপাস এলাকার সংকেত একবারে অকেজো। যে কারণে হাতে পয়েন্ট মিলিয়ে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।’ চুরির কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র কালের কণ্ঠ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত