নিরাপত্তার অজুহাতে এলএনজি না নেওয়ায় ফিরে যাচ্ছে জাহাজ ‘আলহামরা’

Passenger Voice    |    ১১:৩১ এএম, ২০২৬-০৮-১৭


নিরাপত্তার অজুহাতে এলএনজি না নেওয়ায় ফিরে যাচ্ছে জাহাজ ‘আলহামরা’

সৌদি আরবের আরামকো থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী ‘আলহামরা’ থেকে কার্গো গ্রহণ না করায় জাহাজটি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ না করেই ফেরত যাচ্ছে। সামিটের টার্মিনালে ওই জাহাজ থেকে এলএনজি গ্রহণ করেনি। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে জাহাজটিকে। এতে ৬১ হাজার ঘনফুট এলএনজি আছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে বাংলাদেশে এসেছিল ‘আলহামরা’। কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান টার্মিনালের কাছে অবস্থান করলেও জাহাজটি থেকে এলএনজি খালাস করেনি সামিট। টার্মিনাল পরিচালনাকারী পক্ষের নিরাপত্তা ও উপযোগিতা-সংক্রান্ত আপত্তির কারণে জাহাজটি সংযুক্ত করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও তা মানেনি সামিট কর্তৃপক্ষ।

‘আলহামরা’ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি মস-টাইপ এলএনজি ক্যারিয়ার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির বয়স ২৯ বছর। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার এবং ড্রাফট ১১ দশমিক ৩ মিটার। ২৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪৮ মিটার প্রস্থের জাহাজটিতে গোলাকার ট্যাংকে এলএনজি সংরক্ষণ করা হয়।

পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আলহামরা’ কার্গো ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এতে এলসি করা টাকা ফেরত পাবে না বাংলাদেশ। বিকল্প হিসেবে পুনরায় একই পরিমাণ কার্গো পাঠাবে সৌদি আরবের আরামকো– এই শর্তে কার্গোটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ‘আলহামরা’ কার্গো গ্রহণ না করায় সামিটের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এতে দেশে আগে থেকেই চলমান গ্যাসসংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকের ওপর এর প্রভাব পড়ে।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কার্গো গ্রহণ না করায় ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছি। অথচ ২০২১ সালেও ‘আলহামরা’ কার্গো বাংলাদেশে এসেছে এবং সেখান থেকে এলএনজি খালাস হয়েছে।”

তিনি জানান, গতকাল থেকে সামিটের এসএলএনজি টার্মিনাল ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ জাহাজ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে এমএলএনজি টার্মিনাল ৩০০ থেকে কমে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করছে। শনিবার জাতীয় গ্রিডে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হলেও রবিবার তা কমে যাচ্ছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

মেরিন ট্রাফিক সূত্র থেকে জানা গেছে, এলএনজিবাহী আলহামরা জাহাজটি এখনো মহেশখালীতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট চট্টগ্রামের ইউনি গ্লোবাল বিসনেজ লিমিটেড। বন্দর থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলেই জাহাজটি রওনা দেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘আলহামরা’র মতো মস-টাইপ এলএনজি ক্যারিয়ার থেকে অতীতেও বাংলাদেশে এলএনজি খালাস হয়েছে। ফলে এবার জাহাজটি গ্রহণ না করার কারিগরি ভিত্তি ও নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে ‘আলহামরা’ কেন টার্মিনালে গ্রহণ করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে এক্সিলারেট এনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির (এম-এলএনজি) এবং অন্যটি সামিটের (এস-এলএনজি)। দুটি টার্মিনালই পরিচালনা করছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের (এম-এলএনজি) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ৫ আগস্ট আংশিকভাবে সরবরাহ শুরু হলেও গত সোমবার ‘আলহামরা’ রিসিভ না করায় সামিটের এসএলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে পুনরায় সংকট তীব্র হয়।

সামিট এলএনজি টার্মিনাল ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ এলএনজি জাহাজ থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করে শনিবার ভোর সকালে। তখন থেকে দেশে গ্যাসসংকট কিছুটা স্বাভাবিক হয়। আবার গতকাল রবিবার থেকে (এম-এলএনজি) টার্মিনালে স্টক কমে আসায় চাপ কমে যায়। ওই টার্মিনাল এতদিন সীমিত পরিসরে ৩০০ মিলিয়ট ঘনফুট সরবরাহ করে এলেও বর্তমানে সরবরাহ করছে মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

যদিও ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ থেকে এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। কারণ দুটি এলএনটি টার্মিনাল থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে সরবরাহ হচ্ছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে স্টক কমে যাওয়া (এম-এলএনজি) টার্মিনালে পুনরায় জাহাজ সংযুক্ত হলে আরও বাড়বে সরবরাহ।