শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫০ পিএম, ২০২৬-০৮-১৬
সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ ভাঙার কাজ। গত ৫ বছরে সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্পে ১৭৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এসব দুর্ঘটনায় ৩৮ শ্রমিক নিহত এবং ১৮৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্পে ১৭৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন শ্রমিক। আর আহত হয়েছেন ১৮৮ জন। এর মধ্যে ২০২১ সালে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৪ জন। ২০২২ সালে ২২টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৬ জন। ২০২৩ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৮ জন। ২০২৪ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩৬ জন। ২০২৫ সালে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫৪ জন।
এদিকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি জাহাজ বিচিংয়ের সময় দুই শ্রমিক নিহত হন। এরপর ১৪ আগস্টের ফেরদৌস স্টিলের দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহতসহ চলতি বছর মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে, আহত দাঁড়ায় ৪০ জনে।
বিলসের আরেক সাম্প্রতিক হিসাবে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে অন্তত ১৩৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আর গত এক যুগে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৮ জন এবং আহত হয়েছেন ২৭৯ জন।
আরও দীর্ঘ সময়ের হিসাবেও সীতাকুণ্ডের চিত্র উদ্বেগজনক। এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই দশকে সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইয়ার্ডের সংখ্যা কমলেও দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ২০২১-২০২৫ এই পাঁচ বছরে গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ৮ জন শ্রমিক নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন।
সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্পে নিরাপত্তা তদারকি, জাহাজ গ্যাসমুক্ত করার প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও সেফটি অফিসারের উপস্থিতি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশ সম্পূর্ণভাবে গ্যাসমুক্ত করা বাধ্যতামূলক। জাহাজের কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস থাকতে পারে। সুতরাং কারখানা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ শুরু করায় শুক্রবারে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল ছিল।’
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত)-এর প্রাসঙ্গিক ধারা ও বিধি অনুযায়ী ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম শ্রম আদালত-১-এ এ-সংক্রান্ত একটি মামলা করা হয়। মামলার এক মাসের মাথায় ইয়ার্ডটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। সরকার এ শিপইর্য়াডের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’ সূত্র খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত