শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:২৯ পিএম, ২০২৬-০৮-১৫
বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে মিয়ানমার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের ফেরত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার-সমর্থিত প্রশাসন। আজ (শনিবার, ১৫ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নবম বছরে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ বিবৃতি এলো। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সীমান্তরক্ষী চৌকিতে রোহিঙ্গা এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জেরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করে। এ অভিযানে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একের পর এক সহিংসতার শিকার হয়ে লাখো রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন।
সে অভিযানের ব্যাপকতা, সাংগঠনিক রূপ ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি বৈধ জাতিগত সংখ্যালঘুর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে বোঝাতে চায় যে এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং মিয়ানমারে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন।
মিয়ানমার জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দেয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা যায়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত সাবেক বাসিন্দাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে মিয়ানমার।
রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন—এ দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে গেছেন।
মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে দুই বছরের একটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়। তবে ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এই ঘটনার পর সেখানে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এতে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের সব পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে।
২০২৩ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতিগত আরাকান আর্মি গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এতে জীবন বাঁচাতে আরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখাইনের একটি বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শরণার্থীশিবিরের বাজে পরিস্থিতি, বিদেশি সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাঙাচোরা নৌকায় করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে আরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হাতে করে যাচ্ছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাইয়ের শেষে জানিয়েছিলেন, একটি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছিলেন, এ প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুধু মালয়েশিয়ার আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা যাচাইকৃত মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে—এ ধরনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে মিয়ানমার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত