শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১১ এএম, ২০২৬-০৮-১৩
ইংল্যান্ডের স্ট্যাফোর্ডশায়ার ও ডার্বিশায়ারের সীমানায়, পিক ডিস্ট্রিক্টের বেরেসফোর্ড ডেলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে ডোভ নদী। স্বচ্ছ জল, সবুজ উপত্যকা, পাথুরে নদীতীর আর মাছ ধরার দীর্ঘ ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে এই নদী প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাংলিংপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।
ডোভের জলে ট্রাউট মাছের উপস্থিতি নদীটিকে ফ্লাই-ফিশিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে এখানে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা শুধু ছিপ ফেলে অপেক্ষা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীর কোথায় স্রোত বেশি, কোন অংশে জল গভীর, কোথা দিয়ে নিরাপদে নদীতে নামা যায় কিংবা মাছের কাছে পৌঁছতে গিয়ে জলে কতটা শব্দ তৈরি হচ্ছে—প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
বেরেসফোর্ড ডেলের একটি অংশে নদীর স্রোত বাঁক নিতে নিতে তৈরি করেছে ছোট্ট উপদ্বীপের মতো একটি ভূখণ্ড। তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক একটি ফিশিং হাট বা মাছ ধরার কুটির। তবে এটি সাধারণ কোনও নদীতীরের কুটির নয়। পাথর দিয়ে তৈরি এই স্থাপনার দরজার দু’পাশে রয়েছে স্তম্ভ, আর প্রবেশপথের উপরের পাথরে খোদাই করা রয়েছে লাতিন বাক্য ‘পিসকাটোরিবুস স্যাক্রুম’ যার অর্থাৎ ‘সমস্ত মৎস্যশিকারীর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত’।
কুটিরটির ইতিহাস আরও আকর্ষণীয়। দরজার ওপরের লিন্টেল পাথরে জড়িয়ে থাকা সিসি ও আইডাব্লিউ অক্ষর দুটি নির্দেশ করে দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তি কবি চার্লস কটন এবং লেখক আইজ্যাক ওয়ালটনকে। কটন নিজের এস্টেটে ১৬৭৪ সালে এই ছোট মাছ ধরার ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন।
অন্যদিকে আইজ্যাক ওয়ালটনের বিখ্যাত বই ‘দ্য কমপ্লিট অ্যাংলার’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৬৫৩ সালে। মাছ ধরা, প্রকৃতি ও নদীজীবন নিয়ে লেখা এই বইটি ইংরেজি সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে বইটির পঞ্চম সংস্করণের সঙ্গে চার্লস কটন যোগ করেন ট্রাউট ও গ্রেলিং মাছ ধরার পদ্ধতি নিয়ে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা ‘ইনস্ট্রাকশন্স হাউ টু অ্যাঙ্গল ফর আ ট্রাউট অর গ্রেলিং ইন আ ক্লিয়ার স্ট্রিম’। এটিকে ফ্লাই-ফিশিংয়ের প্রথম দিকের প্রযুক্তিগত নির্দেশিকাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ওয়ালটনের বইটি শুধু অ্যাংলিং বা মাছ ধরার ইতিহাসেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি বার পুনর্মুদ্রিত বইগুলোর একটি হিসেবেও পরিচিত। ফলে ডোভ নদীর তীরে কটনের তৈরি এই ফিশিং হাটটি আজ মাছ ধরার ঐতিহ্যের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
ডোভ নদীকে ফ্লাই-ফিশিংয়ের ‘আধ্যাত্মিক ঠিকানা’ বলেও মনে করেন অনেকে। ওয়ালটন ও কটনের লেখালেখির কারণে নদীটির সঙ্গে মাছ ধরার এই বিশেষ কৌশলের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। শতাব্দী পেরিয়েও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ডোভ।
নদীটির সৌন্দর্যের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য তার স্বচ্ছ জল। ঐতিহাসিক বর্ণনায় ডোভকে এমন এক নির্মল জলধারা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার জল স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো। নদীর সবুজ তীর, স্বচ্ছ স্রোত এবং আশপাশের শান্ত প্রকৃতি তাই মাছ ধরার পাশাপাশি নিসর্গ উপভোগেরও সুযোগ তৈরি করে।
ডোভ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মাছ ধরার ঐতিহ্য আজও স্থানীয় ভূদৃশ্যের নানা অংশে অনুভব করা যায়। নদীর বাঁক, গভীর জলাধার, দ্রুত স্রোত কিংবা গাছের ছায়ায় তৈরি শান্ত জল প্রতিটি জায়গাই অ্যাংলারদের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে ট্রাউট ধরতে হলে নদীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলা এবং মাছকে বিরক্ত না করে কাছে পৌঁছনো গুরুত্বপূর্ণ।
ডোভ নদীর আরেকটি পরিচিত অংশ নিউটন সলি, যেখানে নদীটি গিয়ে মিলেছে ট্রেন্ট নদীর সঙ্গে। স্ট্যাফোর্ডশায়ার-ডার্বিশায়ার সীমান্তের এই নদীপ্রবাহ অঞ্চলটির মানুষের জীবন ও স্থানীয় মাছ ধরার সংস্কৃতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।
প্রকৃতি, নদী, মাছ ধরা, সাহিত্য ও ইতিহাস এই পাঁচটি উপাদানকে একসঙ্গে পাওয়া যায় ডোভ নদীর তীরে। তাই পিক ডিস্ট্রিক্টে ভ্রমণকারীদের কাছে এটি শুধু একটি সুন্দর নদী নয়, বরং ইংল্যান্ডের ফ্লাই-ফিশিংয়ের কয়েক শতকের ইতিহাসকে চোখের সামনে তুলে ধরা এক জীবন্ত প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত