গ্যাসসংকট আরও তীব্র হতে পারে

Passenger Voice    |    ১০:৪৫ এএম, ২০২৬-০৮-১২


গ্যাসসংকট আরও তীব্র হতে পারে

চলমান গ্যাসসংকটের মধ্যেই দেশে গ্যাসের সরবরাহ আবারও কমে গেছে। দুই সপ্তাহ ধরে কম থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সোমবার থেকে তা আবার কমতে শুরু করেছে। ফলে সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার এলএনজি বহনকারী একটি নতুন জাহাজ দেশে পৌঁছালেও সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টার্মিনাল সেটি থেকে এলএনজি গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাসের সরবরাহ ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সরবরাহ কমেছে, আজ বুধবার আরও কিছুটা কমতে পারে। গ্যাসের এই ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর আগে ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামের অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এটি মেরামতের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করেছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি (লিকুফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালে জাহাজ সংযোজন করা যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এলএনজি সরবরাহ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বুধবার (আজ) তা আরও কমতে পারে। এতে গ্রাহকদের সংকট কিছুটা বাড়তে পারে। 

তিনি জানান, গত ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামাল দিয়ে টার্মিনাল চালু করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। এরপর থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এখন বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবারও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে সাগর খুবই উত্তাল। ফলে সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি কার্গো পাইপ লাইনে সেটআপ করা যায়নি। এতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এ কার্গো সেটআপ করা গেলে সমস্যা নিমিষেই সমাধান হয়ে যাবে। সেটির জন্য এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। 

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এমনিতেই গ্যাস সরবরাহে চাপ কম ছিল। বৃহস্পতিবার সেটি চালুর পর (এই টার্মিনালটির সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট) বর্তমানে সরবরাহ গড়ে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।

অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালটির সক্ষমতা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর সামিট কয়েক দিন সক্ষমতার বেশি গ্যাস সরবরাহ করেছিল। একপর্যায়ে তাদের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছিল। পরে তা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে স্থির রাখা হয়। যা আগে সব সময় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে স্থির থাকত। তারপরও গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ব্যবধান বেড়ে যায়। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট।

এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর তা বেড়ে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হয়েছিল। কিন্তু চার দিনের মধ্যেই আবার সরবরাহে বড় পতন ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি সপ্তাহে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাসে তৈরি হওয়া নতুন বাধা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গ্যাসের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির রান্নায়। ফলে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র খবরের কাগজ