শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:০৭ পিএম, ২০২৬-০৮-১১
ইউরোপের বীমা খাতে প্রিমিয়াম আয় বাড়ছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থাও শক্ত রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেও খাতটির সামগ্রিক ঝুঁকি এখন ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে সাইবার হামলা। যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশের কারণে সাইবার হামলার ধরন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইউরোপীয় ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড অকুপেশনাল পেনশনস অথরিটির (ইআইওপিএ) ‘জুলাই ২০২৬ ইন্স্যুরেন্স রিস্ক ড্যাশবোর্ড’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি ৩০ জুলাই প্রকাশ করা হয়।
ইআইওপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, লাইফ বীমায় প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নন-লাইফ বীমায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এই প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি বীমা খাতের ঝুঁকি স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সব বীমা কোম্পানির পরিস্থিতি এক নয়। কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম থেকে যে অর্থ আয় করে, তার একটি অংশ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে ব্যয় হয়। এই অনুপাতকে বলা হয় ‘লস রেশিও’। ইউরোপের বীমা খাতে এই হার এখনো ৬০ শতাংশের নিচে। তবে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে। অর্থাৎ প্রিমিয়ামের তুলনায় দাবি পরিশোধে তাদের বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
ইউরোপের বীমা কোম্পানিগুলোর হাতে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট মূলধনও রয়েছে। বীমা গ্রুপগুলোর সচ্ছলতা অনুপাত প্রায় ২১০ শতাংশ। অর্থাৎ ঝুঁকি সামলাতে যতটা মূলধন প্রয়োজন, তার দ্বিগুণের বেশি মূলধন তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে সাইবার ঝুঁকি এখন ‘উচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এআইয়ের দ্রুত বিকাশ, সাইবার বীমার ঝুঁকি নির্ধারণের জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে এর কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ইআইওপিএ। যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে জাহাজ, উড়োজাহাজ ও পণ্য পরিবহন-সংশ্লিষ্ট বীমায় দাবি বাড়তে পারে।
তবে ইউরোপের কোন দেশে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেই তথ্য প্রতিবেদনে আলাদাভাবে দেয়া হয়নি। ইআইওপিএ ইউরোপের বীমা খাতকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করেছে। ফলে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশকে বেশি বা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলা যাচ্ছে না।
পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত ‘সবুজ বন্ডে’ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সামান্য বেড়েছে। এটি এখন তাদের মোট বন্ড বিনিয়োগের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিতেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
তবে আগামী ১২ মাস নিয়ে সতর্ক করেছে ইআইওপিএ। সাইবার হামলা, যুদ্ধ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
ফলে সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় দাবি পরিশোধের খরচ কতটা বাড়ছে।
প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত মূলধনের কারণে ইউরোপের বীমা খাত এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দাবি পরিশোধের খরচ দ্রুত বাড়লে কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চাপ তৈরি হতে পারে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত