দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

Passenger Voice    |    ১০:৫৮ এএম, ২০২৬-০৮-১০


দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে দলের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

এর মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, জেল-জুলুমের শিকার, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দুঃসময়ে বিএনপিকে আগলে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরস্কার পাচ্ছেন সাবেক এই শিক্ষাবিদ। 

এর আগে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। 

এদিকে গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত–এমন সংবাদ প্রকাশের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। গতকাল নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি।

দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে–কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এরপর গতকাল বিএনপির একাধিক সূত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম নিশ্চিত করেছে। তবে মনোনয়নপত্র কার কার নামে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা জানায়নি বিএনপি।

গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনার সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ছাত্রজীবনে তিনি পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্রসংগঠন ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ইউনিয়নে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে সরকারি শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে অর্থনীতি পড়ান।

পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির সচিব হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারি পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা পেশা অব্যাহত রাখেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন।

এরপর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ, বুধবার বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি দলের সপ্তম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত হন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে ছয় কমিটি

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ছয়টি কমিটি গঠন করেছে সরকার। গতকাল ৯ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এসব কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মীর নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম সোহেলের নেতৃত্বে ডকুমেন্টেশন ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি এবং অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমন্বয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি ও অর্থনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।