হরমুজ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত,তবে জলপথ খোলার শর্তে অনড় তেহরান

Passenger Voice    |    ১০:৫০ এএম, ২০২৬-০৮-০৯


হরমুজ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত,তবে জলপথ খোলার শর্তে অনড় তেহরান

ওমানের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও, কেবল এই একটি চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) এ তথ্য জানায় ইরান।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযোগ করেছে যে, জলপথটিতে তেহরান তাদের আরেকটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালীতে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট স্থবির হয়ে পড়ে। সংঘাত নিরসনে ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতায় সমঝোতাকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তিটি খুবই কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তকরণ কেবল এর ওপর নির্ভর করছে না। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আরও কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে। এছাড়া, পূর্বের আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থা তেহরানের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং একটি স্থায়ী কাঠামোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে একটি সাময়িক বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন আশা করছে যে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে জলপথটিতে শীঘ্রই স্বাভাবিক জ্বালানি পরিবহন সচল হবে। চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানান তিনি। তবে মার্কিন পদক্ষেপ পুরোপুরি ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

তবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি স্পষ্ট করে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের শর্তগুলো মেনে নেবে, তখনই কেবল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এটি ইরান-ওমান আলোচনার ওপর এককভাবে নির্ভরশীল নয়।'

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোরকাদর মার্কিন হুমকি বন্ধ করা, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা থামানো, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তোলা এবং বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

এরই মধ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায়। আমিরাত পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হামলাকে উসকানিমূলক আচরণ বলে নিন্দা জানায়, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে যে ইরান ওমানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক হচ্ছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণের এবং আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান কূটনীতিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে অধিকার আদায় সম্ভব হলে যুদ্ধের পথে হাঁটার প্রয়োজন নেই এবং অধিকাংশ সামরিক প্রধানগণই শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন। সূত্র: আল জাজিরা