শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:২৬ পিএম, ২০২৬-০৮-০৭
বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস বাজারে ঢুকে পড়লে অন্তত সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ৬ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী’ পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস এরুলিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বাজার ও সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের দুঘোলগাছী গ্রামের মৃত গোলাপ শাহ'র ছেলে তাজিমুল (৪৭), বগুড়ার ফাপোঁড় মধ্যপাড়া মৃত ইব্রাহীম আলীর ছেলে বেল্লাল হোসেন (৩৭) ও কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদারপাড়ার মৃত নজের হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (৭৬), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বহিলগ্রামের ফয়জার রহমানের ছেলে নূর আলম (৪৫) ও এনায়েতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে আবু সাঈদ (৪৫) এবং জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মৃত খায়বর আলীর ছেলে আনারুল (৫৫) ও পাঁচবিবি থানার আমিরপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আমিরুল (৪০)।
বাসের কয়েকজন যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে যাত্রার পর থেকেই চালককে ঘুমঘুম মনে হচ্ছিল। পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কেউ খেয়াল করেননি। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি বাজারে ঢুকে পড়লে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাসের সামনের সারির যাত্রীরাই বেশি আহত হন।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি এসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অধিকাংশই বাসের যাত্রী।’
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লাল মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও চারজন মারা যান। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক এবং তাদের একজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটির সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে এড়াতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সেটি এরুলিয়া বাজারে ঢুকে রাস্তার পাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত