নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Passenger Voice    |    ০৩:০৩ পিএম, ২০২৬-০৮-০৬


নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়

একই সঙ্গে এ কাজে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

সালের ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষা’ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এসময় নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ আইন প্রয়োগ, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণকে এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ কমিটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করে নির্ধারিত সময় পর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, নদীদূষণ বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।