অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ফের আলোচনায় বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন

Passenger Voice    |    ১২:১৩ পিএম, ২০২৬-০৮-০৬


অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ফের আলোচনায় বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’র মাদারীপুর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন আহম্মেদের। তবু অজানা কারণে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বিআরটিএ মাদারীপুর সার্কেলে কর্মরত এই মোটরযান পরিদর্শক।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার আলীর বাজার গ্রামে মাস্টারবাড়ির জনৈক মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ সাইফুল ইসলাম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ  রবিউল আলম বরাবর এক অভিযোগে এই মোটরযান পরিদর্শকের বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ অভিযোগ দায়ের করেছেন। সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পত্রে সামসুদ্দীন আহম্মেদ সম্পর্কে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, নিয়ম বহির্ভুতভাবে অর্থ আদায়, মোটরযানের ফিটনেস সনদ প্রদানে গ্রাহক হয়রানির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে উল্লেক রয়েছে।

এছাড়াও বৈধ আয়ের সাথে সুস্পষ্টভাবে অসামাঞ্জস্যভাবে তাঁর নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ ও জমি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল যানবাহন ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন সাইফুল ইসলাম। তবে স্পষ্ট কোনো সম্পদের দলিল ও তথ্য প্রমাণ সংযুক্ত করেননি।

তবে বিষয়টি অনুসন্ধানে তদন্ত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে গত ২৩ জুলাই নং-৩৫.০০.০০০০.০০০.০২৮.২৭.০০১৭.২৩.১৫৭ সংখ্যক স্মারকমূলে পত্র পাঠিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব এস.এম. শান্তুনু চৌধুরী। 

বিআরটিএ সূত্র বলছে, এই মোটরযান পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর বহুল প্রচলিত এক দৈনিক পত্রিকায় ৬ ঘন্টায় ১২শ ফিটনেস সনদ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের অভিযোগসমূহ তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিআরটিএ। একইসাথে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক উপসচিব মোঃ মনিরুল আলম কর্তৃক আরও একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। উভয় প্রতিবেদনে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনে অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের আইন সংজ্ঞত আদেশ অমান্য করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর এই কর্মকর্তাকে মাদারীপুর সার্কেলে বদলীপূর্বক বিভাগীয় মামলা নং ২৫/২০২৩ রুজু করে বিআরটিএ। 

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দীন আহমেদ তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনেও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটরযান পরিদর্শন না করে ফিটনেস প্রদান করা, মোটরযানের সাথে পরিদর্শকের ছবি না তোলা এবং মোটরযান উপস্থিতির সত্যতার বিষয়ে প্রমাণক উপস্থাপন করতে না পারায় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান  প্রজ্ঞাপন জারি করে মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন আহম্মেদকে সরকারি চাকুরি আইন ২০১৮ এর ৩২(ক)(আ) ধারা অনুযায়ী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে বিধি ৪(২)(খ) মোতাবেক দুই বছরের  জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করণের শাস্তি প্রদান করেন। উক্ত দন্ডাদেশ চলতি বছরের ১ জুলাই হতে কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল মাদারীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিল সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিঃ) শফিকুজ্জামান ভুঁইয়া প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, আমার কাছে নতুন কোনো অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে জানা নেই। যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টি খবর নিচ্ছি।