শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৩ এএম, ২০২৬-০৮-০৬
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে বুধবার (৫ আগস্ট) যথাযথ মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতারা এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলন ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাণী পড়ে শোনানো হয়। ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত ‘জুলাইয়ের চিঠি’ এবং ‘ছাদ আকাশের গল্প’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুইটি প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহতসহ সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাইকমিশনার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন।
হাইকমিশনার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এই অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, গৃহবধূ, নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকরা বাংলাদেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত