শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:২৮ পিএম, ২০২৬-০৮-০৪
সংগঠনটি বলেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি’ পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। তার সঙ্গে তুলনা করে এবারের জুলাইয়ের অর্জনকে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অংকের বিচারে গত জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে গেলেও বিষয়টি ‘নেতিবাচক’ হিসেবে দেখতে রাজি নয় পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, একক মাস হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি’ পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।
“বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। আর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল রেকর্ড ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
ওই মাসে পোশাক রপ্তানিতে ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর এ বছর জুলাইয়ে রপ্তানি উল্টো কমেছে।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির সাড়ে ১৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। অর্থের পরিমাণে তা বছরে গড়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।
ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৬০টির বেশি দেশের ওপর নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন।
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয় ৩৫ শতাংশ শুল্ক, যা পরে কমিয়ে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ওই শুল্ক কার্যকর হয় ২০২৫ সালের অগাস্টে। সে কারণে তার আগের মাস জুলাইয়ের মধ্যে পণ্য পেতে ক্রেতারা দ্রুত ও অতিরিক্ত ক্রয়াদেশ দেয়।
মে ও জুন মাসের সেই অতিরিক্ত ক্রয়াদেশের সুবাদেই ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পোশাকসহ সার্বিক রপ্তানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় বলে রপ্তানিকারকদের ভাষ্য।
কিন্তু পোশাক শিল্প এখন ‘নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি’ জানিয়ে বিজিএমইএ বলেছে, “যার মধ্যে রয়ে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এরকম সময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু।”
শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে উদ্যোক্তাদের ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) অনুমোদন দিয়ে থাকে বিজিএমইএ।
ইউডির সংখ্যা ও তাতে কাঁচামাল আমদানির পরিমাণগত তথ্য বিশ্লেষণ করেও সম্ভ্যাব্য রপ্তানি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
মঙ্গলবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০২৬ৃ সালের জুলাই মাসে ইউডির পরিমাণ ২০২৫ এর জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ২.৮ শতাংশ কমেছে।
তারপরও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রকাশ করে সংগঠনটি বলছে, “কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা-দূর করতে পারলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
গত জুলাই মাসে বর্হিবিশ্বে সার্বিক রপ্তানির অংক দাঁড়িয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলারে। এ অংক আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশে রপ্তানি আয় ছিল ৪৭৭ কোটি ৬ লাখ ডলার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত