চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে পড়া সিএনসি ইউরেনাসকে ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

Passenger Voice    |    ০১:১৭ পিএম, ২০২৬-০৮-০৪


চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে পড়া সিএনসি ইউরেনাসকে ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে পড়া কনটেইনারবাহী জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাসকে প্রায় ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি উদ্ধার করা হয় বলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে জাহাজটি বন্দর চ্যানেলের লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশের কংক্রিট দেয়ালে আটকে যায়।

বন্দরের সচিব রেফায়েত হামিম মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানান, রাতভর পরিচালিত সুসংগঠিত ও নিখুঁত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া কনটেইনার জাহাজ সিএনসি ইউরেনাসকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্ত করার পর জাহাজটিকে নিরাপদে ‘বি’ অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো হয়েছে। যার ফলে দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দরের কার্যক্রম কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও উদ্ধারে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সহযোগিতা দেয়।

২০১৭ সালে নির্মিত মাল্টার পতাকাবাহী ১৭০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ সিএনসি ইউরেনাস কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি- স্টিয়ারিং বিকলতার সম্মুখীন হয়। এর ফলে জাহাজটি ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং নদী মোহনা-সংলগ্ন সুরক্ষা দেয়ালের ওপর আছড়ে পড়ে।

জাহাজটি ২ আগস্ট চীনের শিকৌ বন্দর থেকে এক হাজার ২৮২ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এতে মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক রয়েছেন। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট এপিএল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিএনসি ইউরেনাস থেকে জরুরি বার্তা পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একটি সুপরিকল্পিত সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত মোতায়েন করা হয় বন্দরের সিনিয়র পাইলট, বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারি-২’, ‘কান্ডারি-৪’, ‘কান্ডারি-৬’ ও ‘কান্ডারি-১১’, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট ‘শিবসা’, টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগবোট ‘প্রমত্ত’। নেভিগেশন চ্যানেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও এই সমন্বিত অভিযানে সরাসরি যোগ দেন।

উদ্ধারকারী দল চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও অসাধারণ দক্ষতা ও যৌথ সমন্বয় প্রদর্শনের মাধ্যমে রাতভর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যান। জাহাজটিকে মুক্ত করতে ড্রাফট কমানোর লক্ষ্যে সাময়িকভাবে কিছু কনটেইনার খালাস করার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছিল।

অবশেষে গভীর রাতে সমন্বিত প্রচেষ্টায় সিএনসি ইউরেনাসকে সফলভাবে উদ্ধারের পর নিরাপদে ‘ব্রাভো’ অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা সম্ভব হয়। পুরো উদ্ধার অভিযান চলাকালীন বন্দর চ্যানেলটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নৌ চলাচলের উপযোগী ছিল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে থাকে।