শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫০ এএম, ২০২৬-০৮-০৪
যমুনা ও পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রেলপথ চালু হলেও লোকো (ইঞ্জিন) ও কোচের সংকটের কারণে পর্যাপ্ত আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি আগস্টে রেলওয়ের বহরে নতুন কোচ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ঢাকা-পাবনা ও খুলনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোংলা পর্যন্ত সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের।
তবে রাজশাহী ও যশোরের যাত্রীদের দাবি, বন্ধ হওয়া লোকাল ট্রেনগুলো পুনরায় চালু এবং রাজশাহী থেকে চলাচলকারী পাঁচটি ট্রেনে নতুন কোচ প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা গোপালগঞ্জ রুটে নতুন কমিটার ট্রেন চালানো ছাড়াও ঢাকা-খুলনা রুটের আন্তঃনগর ট্রেনটি মংলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এদিকে, জনবল সংকটের কথা স্বীকার করলেও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ থাকা স্টেশন ও ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর আশ্বাস দিচ্ছে রেলওয়ে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে যমুনা সেতু পাবনা রুটে, ২০২২ সালে ঢাকা পদ্মাসেতু যশোর ও ঢাকা পদ্মাসেতু ফরিদপুর রুট এবং ২০২৪ সালে খুলনা মংলা রুটে রেলপথ চালু করা হয়। তবে ইঞ্জিন ও কোচের স্বল্পতার কারণে এসব রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। যমুনা সেতু পাবনা ও খুলনা মংলা রুটে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়নি।
তবে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, চলতি আগস্ট থেকে রেলের বহরে যুক্ত হবে ২০০ নতুন কোচ। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পশ্চিমাঞ্চলের ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে আরেকটি করে আন্তঃনগর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা আছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের।
এছাড়া যশোর থেকে কোনো প্রভাতী ট্রেন নেই। বেনাপোল, খুলনা ও দর্শনা থেকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি চারটি ট্রেন চালু করার দাবি জানান স্থানীয়রা। রাজশাহী থেকেও চলাচল বন্ধ হয়ে আছে একাধিক লোকাল ট্রেনের। যা দ্রুত চালুর দাবি নাগরিক সংগঠনের নেতাদের।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প শুরু হলে আমাদের দাবি ছিল, প্রভাতে যশোর থেকে ঢাকায় যাওয়ার একটা ট্রেন। সঙ্গে আরও একাধিক ট্রেন। আমরা আন্দোলন করে একটি ট্রেন পেয়েছি, সেটা হচ্ছে বিকেলে। আমরা যা চেয়েছিলাম তার বিপরীত আমাদের আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ হয়নি।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামান খান বলেন, উত্তরা ট্রেন থেকে শুরু করে প্রায় অনেক ট্রেনই বন্ধ। শুধু ট্রেন বন্ধ না, অনেক স্টেশনও বন্ধ হয়ে আছে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনবান্ধব সরকার বলে দাবি করছে, সুতরাং জনগণের উপকারের স্বার্থে অবশ্যই ট্রেনগুলো চালু করা এবং রিমডেলিং করে স্টেশনগুলো তৈরি করা।
নাগরিক দাবির সঙ্গে একমত হলেও সীমাবদ্ধতা থাকলেও বন্ধ থাকা কয়েকটি ট্রেন ও স্টেশন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ।
মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে দুইটা রুটে একটা হলো ঢাকা-পাবনা এবং আরেকটি হচ্ছে ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন চালু করব। রুট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাবনা-ঢাকা রুটের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। খুলনা-ঢাকার রুটের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি বলেন, একটা স্টেশন চালু করতে হলে স্টেশন মাস্টার লাগে এবং কিছু সাপোর্টিং স্টাফ লাগে। আমাদের মাস্টারের স্বল্পতা ছিল, চুক্তিভিত্তিক মাস্টার এবং কিছু নতুন মাস্টার নিয়োগ পেয়েছি। সেগুলো পর্যায়ক্রমে ওই সমস্ত চুক্তিভিত্তিক মাস্টারের সাথে এগুলোকে নিয়োগ করে এ সমস্ত স্টেশন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা চালু করব।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত