শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:১৫ পিএম, ২০২৬-০৮-০২
সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত নয়া রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রেল সচিবকে নিয়ে সিলেটে এসেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী৷
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ট্রেনে করে সিলেট পৌঁছেন মন্ত্রী। এরপর বাসে করে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনকে নিয়ে মন্ত্রী নিজ নির্বাচনি এলাকার জাফলংয়ে সিলেট-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
পরিদর্শনকালে তারা জাফলং পর্যন্ত ট্রেন লাইন স্থাপন পরবর্তী চালুর সম্ভাব্যতা যাছাই করেছেন। এর আগে ট্রেনে করে সিলেট আসার সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বেলা ১১টার দিকে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে স্টেশনটি পরিদর্শন করা হয়। পরে কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি কিছু সময় দাঁড়ালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সফররত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রেলওয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। যাত্রাপথে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পর থেকে সিলেট পর্যন্ত সকল স্টেশন এবং রেললাইনের সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে বলে জানা যায়।
সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, খসড়া সমীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ চলছে। আজকের সফরের উদ্দেশ্য হলো সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এসে সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। কারণ একসঙ্গে না বসলে একজনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আরেকজনের সমন্বয় হয় না। ট্রেন ও বাসে একসঙ্গে আসার কারণে আমরা অনেক বিষয়ে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ও প্রস্তাবিত রেলপথের মধ্যে সমন্বয়ের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যে রেলপথ আনা হবে, তা মহাসড়কের কাছাকাছি দিয়ে নিয়ে এলে নির্মাণ খরচ অনেকটাই কমে আসবে। যেমন সারী নদীর ওপর যে সেতু হবে, সেখানে আমরা এখন ভাবছি দুটি আলাদা সেতুর প্রয়োজন নেই। একটি সেতুর নিচ দিয়ে রেলপথ এবং ওপর দিয়ে সড়ক নিয়ে আসা যেতে পারে। উপদেষ্টা কমিটি, জেলা প্রশাসক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক অবকাঠামো বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছেন যে, রেলপথ নির্মাণে স্থানীয় বাজারগুলো বাইপাস করা হবে, যাতে বাজার ভাঙতে না হয় এবং মানুষের স্কুল-মসজিদ ও অক্ষত থাকে।
মন্ত্রী বলেন, আসার পথে একাধিক রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন আগামী এক মাসের মধ্যে দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট-জাফলং নয়া রেলপথের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি আর ও বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া জমি অধিগ্রহণ সম্ভব নয়। রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের মধ্যে সমন্বয় না হলে দুটি প্রকল্প ভিন্ন দিকে চলে যাবে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করার এই উদ্যোগ। প্রকৌশল বিভাগের কারিগরি প্রতিনিধিরা ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত