রাস্তা খুঁড়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার, চার বছর ধরে দুর্ভোগে মানুষ

Passenger Voice    |    ১২:৫৭ পিএম, ২০২৬-০৮-০২


রাস্তা খুঁড়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার, চার বছর ধরে দুর্ভোগে মানুষ

ধুলায় ধূসর দীর্ঘ পথ। কোথাও ইটের সুরকি ছড়িয়ে আছে, কোথাও বৃষ্টির পানিতে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। মোটরসাইকেল চললে ধুলার ঝাপটায় ঢেকে যায় চারপাশ, আর বৃষ্টি নামলেই সেই পথ পরিণত হয় কাদার ফাঁদে। এই পথ পাড়ি দিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। সংস্কারের নামে রাস্তা খুঁড়ে ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নালিয়াটেকি থেকে ফাওগান বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ইলিক্ট্রোগ্লোব এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক খুঁড়ে ইটের সুরকি ও বালু ফেলার পরই কার্যত কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর চার বছর ধরে আর এগোয়নি নির্মাণকাজ।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙা ইটের সুরকি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ সুরকি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, আর শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই সড়ক দিয়ে নালিয়াটেকি, রাজারামপুর, লক্ষীপুর, ফাওগান, গজারিয়া, পাবুরিয়ারচালা, হালুকাইদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন জেলা শহর ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির এমন বেহাল অবস্থার 
কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি খুঁড়ে সুরকি ফেলে রাখার পর থেকেই তাদের চলাচলে কষ্ট বেরে গেছে। সুস্থ মানুষ তাও কোনো মতে যাতায়াত করতে পারে, অসুস্থ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।  

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘চার বছর ধরে আমরা শুধু কষ্টই পাচ্ছি। রাস্তা খুঁড়ে রেখে ঠিকাদার চলে গেছে। গাড়ি কম চলে, অসুস্থ মানুষ নিয়ে বের হলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কতবার যে এই রাস্তা নিয়ে অভিযোগ করেছি, তার হিসাব নেই।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ার পর তাদের জরিমানা করা হয়। পরে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকায় কাজটি পায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ পাওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলিক্ট্রোগ্লোব এন্টারপ্রাইজের মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হবে। কাজের একটা অংশ যেহেতু করাই আছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

এলজিইডির শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌফিক আহমেদ বলেন, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করার পর চলে যায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে। পরে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা তার।