শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৮-০২
পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতি প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে রাজধানীর নিরীহ পথচারীদের। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর এলাকার সড়কগুলো এখন দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গত ছয় বছরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেপরোয়া গতির কারণে রাতে ও সকালে দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি।
দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভোরে ১৪২ জন, সকালে ২৫৮, দুপুরে ১৯৫, বিকেলে ১৭৪, সন্ধ্যায় ৯৬ এবং রাতে ৫১৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইপাস রোড না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছেন। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চালকরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন। তাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে রাজধানীর সড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে গত সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৯২ জন পথচারী; মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন, বাস-রিকশা-সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ যানবাহনের চালক ও যাত্রী ২৫৬ জন।
দুর্ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, ফুটওভারব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগী না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাই অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির কারণ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য রুট র্যাশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত