বাংলাদেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র

Passenger Voice    |    ১০:৫৪ এএম, ২০২৬-০৮-০২


বাংলাদেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার (বি-১/বি-২) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে বলতে পারবেন।

গত শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই নিয়ম আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে।

এই কর্মসূচি বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার। বাকি দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশও রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় বিবেচনায় আওতাভুক্ত দেশের অ-অভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। এই বন্ড ভিসা ইস্যুর একটি শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এটি সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে এটি কার্যকর হয়েছে। তাই কর্মসূচিটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন বিধিমালায় ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে) কমাতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিবাসন-অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক মানুষের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বাধা সৃষ্টি করবে।

তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থি এবং এটি জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে ও বর্ণগত বৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অবৈধ অভিবাসন কমানোর অঙ্গীকার করলেও ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের পথও কঠোর করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন ফি বৃদ্ধি, কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত ফি আরোপ এবং আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাইসহ একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স