‘দুয়ার খুলছে মালয়েশিয়া’: অগাস্টেই কর্মী পাঠানো শুরুর লক্ষ্য

Passenger Voice    |    ০৪:১৪ পিএম, ২০২৬-০৭-৩১


‘দুয়ার খুলছে মালয়েশিয়া’: অগাস্টেই কর্মী পাঠানো শুরুর লক্ষ্য

অগাস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেছেন, দুই দেশ একটি নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

“একই সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”

বৃহস্পতিবার বিকালে কুয়ালা লামপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন। এসময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ২৮-৩০ জুলাই থেকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রামানন রামাকৃষ্ণনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে কতটি এজেন্সি অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দুর্নীতি, অনিয়ম, সিন্ডিকেটভিত্তিক কার্যক্রম বা পূর্ববর্তী ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সময় সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার সমর্থন করবে না।

“সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটি উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক, জবাবদিহিমূলক এবং সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সাধারণ কর্মীরা কম খরচে এবং হয়রানিমুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।”

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুই দেশের হাই কমিশন এবং কারিগরি পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন জানিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং নতুন কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে পরবর্তী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, তাদের শ্রম মালয়েশিয়ার শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মালয়েশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়াকে তার প্রথম বিদেশ সফরের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে নির্বাচন করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার প্রতি সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আজ একটি বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। শ্রম অভিবাসনের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।

এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। সরকারি হিসাবে বর্তমানে ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। এছাড়া অনিয়মিত (অবৈধ) হয়ে পড়া আরও কয়েক হাজার বাংলাদেশি সেখানে রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশিরা সেখানে মূলত উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, পাম অয়েল বাগান, কৃষি, সেবা খাত ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

তবে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্যের কারণে অনেক কর্মী সেখানে ভোগান্তির শিকার হন।

২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ কার্যত বন্ধ করে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব কর্মী প্রবেশ করতে পারেননি, তাদের নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। এর মধ্যে গেল জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে এ আলোচনা গতি পায়।