চট্টগ্রামে মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে মিললো ২১ কার্টন বিদেশি মদ

Passenger Voice    |    ১১:৩৯ এএম, ২০২৬-০৭-৩১


চট্টগ্রামে মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে মিললো ২১ কার্টন বিদেশি মদ

চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যান চালক। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২১ কার্টন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নতুন ব্রিজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত চেকপোস্টে সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসকে থামার সংকেত দেন ট্রাফিক সদস্যরা। চালক প্রথমে গাড়িটি সড়কের পাশে থামিয়ে কাগজপত্র দেখানোর প্রস্তুতি নিলেও পরে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি গাড়িটি লক করে বাইরে নেমে মোবাইল ফোনে কথা বলার ভান করেন। ট্রাফিক সদস্যরা গাড়ির ভেতরে উঁকি দিলে তিনি হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যান।

ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে ধাওয়া করলেও জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে মাইক্রোবাসটি জব্দ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে ২১ কার্টন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রতিটি কার্টনে ১০ থেকে ১১টি করে মদের বোতল রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মদের সঠিক পরিমাণ ও বাজারমূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি হেফাজতে নেওয়া হয়। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে ২১ কার্টন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মদ কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাতক চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক বিভাগের এক সদস্য জানান, নিয়মিত চেকিংয়ের সময় মাইক্রোবাসটি থামানো হয়। চালক কাগজপত্র দেখানোর পরিবর্তে গাড়ি লক করে বাইরে নেমে মোবাইলে কথা বলতে থাকেন। এরপর গাড়ির ভেতরে নজর দিতেই তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পুলিশ একজনকে ধাওয়া করতে দেখে আশপাশের কয়েকজনও তাকে ধরার চেষ্টা করেন। তবে ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিদেশি মদের উৎস, পরিবহনপথ এবং সম্ভাব্য চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।