চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর যা জানাল পুলিশ

Passenger Voice    |    ০৫:৩০ পিএম, ২০২৬-০৭-৩০


চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর যা জানাল পুলিশ

উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পেশাদার কৌশলের সমন্বয়ে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে এবার বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ (২৫) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে নিবিড় অনুসন্ধান শুরু করে জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতিতে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা।

রিমান্ডে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডেভিড ইমনের সঙ্গে গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার পোস্টাগোলার আল ইসলাম আলিফ এবং যাত্রাবাড়ীর মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অপরাধচক্রের অর্থায়ন এবং তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।