খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

Passenger Voice    |    ০২:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৭-২৯


খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক ও চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং তারল্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এই দুই ধরনের ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এ হার ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

একই সময়ে ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা ৯টি চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে হয়েছে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এ হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ এবং উচ্চ ঝুঁকির ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে এই দুই শ্রেণির ব্যাংক তীব্র তারল্য চাপে রয়েছে। মার্চ শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অ্যাডভান্স-টু-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর ১০১ দশমিক ৬ শতাংশ। কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ১০০ শতাংশের বেশি, যা আমানতের তুলনায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পোর্টফোলিও দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর এডিআর বেড়েছে। অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং খাতের গড় এডিআর বর্তমানে ৮২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থান নির্দেশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমিত তারল্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা, দ্রুত ঋণ সম্প্রসারণ এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত বছর তীব্র তারল্যসংকট ও ঋণ-অনিয়মের অভিযোগের পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, সুশাসনের ঘাটতি এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের অন্য অংশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। দ্বিতীয় প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং এডিআর ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা তাদের শক্তিশালী তারল্য অবস্থান নির্দেশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছে, ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ এবং দ্রুত বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। এ কারণে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, এডিআর গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যথায় বিদ্যমান দুর্বলতা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।