শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৪ এএম, ২০২৬-০৭-২৯
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন ঘাটে যাত্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দুটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়েছে। তবে ইজারা নিয়েও ঘাটে বোট নামাতে পারছেন না ইজারাদাররা। অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে যাত্রী পরিবহন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ নৌযানের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ ইজারাদাররা। বিআইডব্লিউটিএও স্বীকার করছে, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে এসব নৌযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ও দরবার ঘাটে প্রায় এক ডজন অবৈধ নৌযান চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পিডবোট ও লাইফবোট। স্থানীয়রা এসব নৌযানকে ‘লাল বোট’ নামে চেনে। স্পিডবোটে অন্তত ১০ জন এবং লাইফবোটে অন্তত ৬০ জন যাত্রী পারাপার করা হয়। যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা। শুষ্ক মৌসুমে দিনে অন্তত তিন হাজার এবং বর্ষা মৌসুমে তার অর্ধেক যাত্রী পারাপার করে এসব অবৈধ বোট মালিকরা প্রতিদিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ‘মগনামা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন করা হয়েছে। এটি মূলত নৌরুট নিয়ন্ত্রণের একটি শক্ত সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছে। তারা মগনামা থেকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ও দরবার ঘাটে নৌযান চালাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নুরুল ইসলামের মোবাইলে চার দিন ধরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমিরা-সন্দ্বীপ, কক্সবাজার-মহেশখালী ও মগনামা-কুতুবদিয়া নৌপথে খেয়া পারাপার হিসেবে প্রতিবছর ইজারা দিত জেলা প্রশাসক। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন সেসব খেয়া পারাপার ইজারা বন্ধ করে তিনটি নৌপথকে নৌরুট হিসেবে ঘোষণা দেন। এর পর রুটগুলো বিআইডব্লিউটিএর অধীনে চলে যায়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সেখানে যাত্রী পারাপারে সি-ট্রাক নামায় বিআইডব্লিউটিসি। তবে সি-ট্রাকের সেবা অপর্যাপ্ত হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যাত্রী পারাপারের অনুমোদন দেয়।
চলতি বছরের মে মাসে মেসার্স মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ ও নেওয়াজ এন্টারপ্রাইজ মগনামা-কুতুবদিয়া রুটে আটটি বোট চালানোর অনুমোদন পায়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের খেয়া পারাপারের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। তবে এর পরও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যাত্রী পারাপার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইজারাদার মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তানভীর মাহমুদ জানান, রাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়েও তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। অন্যদিকে অবৈধরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বোট চালাচ্ছে। বিষয়টি তারা বিআইডব্লিউটিএ-কে মৌখিকভাবে এবং কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একই সময়ে ঘোষণা হওয়া অপর দুই নৌরুটে অবৈধ নৌযান বন্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মগনামা-কুতুবদিয়া নৌরুটের অবৈধ নৌযান বন্ধ হচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিএর চিঠি
সম্প্রতি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক নয়ন শীল।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রুট পারমিট ছাড়াই নৌযান পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ ও সংশোধনী ২০০৫-এর আইন ও বিধির পরিপন্থি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। গত ৫ জুলাই কুতুবদিয়া দরবার ঘাটে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই রুটে যাত্রী পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তারা ঘাট থেকে খাস কালেকশন করেন। অবৈধ নৌযান উচ্ছেদে বিআইডব্লিউটিএ থেকে দেওয়া চিঠিও আমার কাছে পৌঁছেনি।’
বিআইডব্লিউটিএ উপ-পরিচালক নয়ন শীল জানান, ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। ব্যবস্থা নিতে কুতুবদিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছি। কারণ বিআইডব্লিউটিএর কাছে পর্যাপ্ত জনবল নেই। তবে বৈধ ইজারাদারদের বোট নামাতে না পারার বিষয়টি তার জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘যারা অনুমোদন নিয়েছে তারা সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে। তারাই বৈধভাবে নিরাপদে যাত্রী পারাপার করবে। বৈধদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধদের উচ্ছেদ করা হবে।’
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো চিঠি না পৌঁছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না পাওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া ওই রুটে খেয়া পারাপার বন্ধ করা হয়েছে অনেক আগে। এখন জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের নতুন করে ইজারা দেওয়া বা খাস কালেকশনের সুযোগ নেই।’ বিষয়টি নিয়ে তিনি মোবাইলে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত