শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:০৬ পিএম, ২০২৬-০৭-২৮
বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সেপ্রেসে যাত্রীসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওয়াশরুম ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, টিস্যু ও হাত ধোয়ার সাবান না থাকা এবং দুর্গন্ধের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ, বাধ্য না হলে কেউ ট্রেনের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চান না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব ট্রেনে আসন ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আকর্ষণীয় হলেও ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে না। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘপথের ট্রেনে নির্দিষ্ট সময় পরপর ওয়াশরুম পরিষ্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বেনাপোলে পৌঁছায়। ফের বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকায় পৌঁছায়।
অন্যদিকে বেনাপোল এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। ঢাকা থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বেনাপোলে পৌঁছায়। ট্রেন দুটি যশোর, নড়াইল, কাশিয়ানী জংশন, ভাঙ্গা জংশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করে।
বর্তমানে রূপসী বাংলা এক্সেপ্রেসে বেনাপোল থেকে ঢাকার শোভন চেয়ার ভাড়া ৪৫৫ টাকা এবং স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৮৬৯ টাকা। অন্যদিকে বেনাপোল এক্সেপ্রেসে বেনাপোল-ঢাকা শোভন চেয়ার ৫০০ টাকা এবং এসি চেয়ার ১,১৫০ টাকা। যশোর-ঢাকা রুটে শোভন চেয়ার ৫৬০ টাকা এবং এসি চেয়ার ১,০৭০ টাকা।
যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া অনুযায়ী প্রত্যাশিত সেবা মিলছে না। ওয়াশরুমে টিস্যু, সাবান কিংবা ময়লা ফেলার ঝুড়িও নেই। দীর্ঘ যাত্রাপথে এসব মৌলিক সুবিধার অভাবে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
বেনাপোলের দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজুর রহমান নিয়মিত বেনাপোল এক্সেপ্রেসে ঢাকা যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, ট্রেনের পরিবেশ ভালো হলেও ওয়াশরুম ব্যবহারের মতো অবস্থায় থাকে না। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। বাধ্য হয়েই যাত্রীরা ওয়াশরুম ব্যবহার করেন।
চাকুরিজীবি বাবলুর রহমান বলেন, ছুটির দিনে আমি রূপসী বাংলা এক্সেপ্রেসে যাতায়াত করি। ট্রেনটি নতুন ও আরামদায়ক হলেও ওয়াশরুম অত্যন্ত অপরিষ্কার। সেখানে সাবান বা টিস্যু থাকে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ওয়াশরুমে যেতে চান না।
যাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম রুটের কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে নিয়মিত ওয়াশরুম পরিষ্কার করা হয় এবং সেখানে সাবান ও টিস্যুর ব্যবস্থা থাকে। ফলে একই ধরণের সেবা পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোতেও নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে যশোর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, ট্রেন ছাড়ার আগে প্রথম স্টেশন থেকেই ওয়াশরুম পরিষ্কার করা হয়। যশোর থেকে কোনো ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় না। তাই এ বিষয়ে আমার দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি ট্রেনে মোবাইল ক্লিনার রয়েছে। ট্রেন ছাড়ার আগে ওয়াশরুম পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। কেন তা কার্যকর হচ্ছে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে এখনো 'অনবোর্ড সার্ভিস' চালু না হওয়ায় যাত্রীরা কিছু সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত