কিউ টার্মিনালসের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন

Passenger Voice    |    ০১:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৭-২৮


কিউ টার্মিনালসের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন

ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোর্ট টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান কিউ টার্মিনালসের গ্রুপ সিইও মার্কো নিলসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

সাক্ষাৎকালে বন্দর চেয়ারম্যান কিউ টার্মিনালসের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বন্দরের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকারের রূপকল্প অনুযায়ী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে চট্টগ্রাম বন্দর তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। বিশেষ করে কনটেইনার জট কমানো, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমিয়ে আনা এবং বড় আকারের আধুনিক কনটেইনার জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানোর সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মেরিটাইম হাব বা আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বমানের বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ প্রযুক্তিগত অংশীদারদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এর মাধ্যমে দেশের বন্দর খাতকে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

কিউ টার্মিনালসের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বিশ্বমানের পোর্ট টার্মিনাল পরিচালনা ও মেরিটাইম লজিস্টিকসে কিউ টার্মিনালসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে তারা আগ্রহী।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি বন্দরের প্রধান জেটি এলাকা, ইয়ার্ড এবং বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দরের পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, সিপিএ স্কাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের প্রশংসা করেন।

উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে কারিগরি মূল্যায়ন, তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কিউ টার্মিনালসের এই উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।